শেরপুরের নকলায় চাচাকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ভাতিজা ও তার দুই সন্তানের ওপর।
বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার গৌড়দ্বার ইউনিয়নের রুনীগাও মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আইয়্যুব আলী (৬৫) রুনীগাওয়ের দছির উদ্দিন মেম্বারের ছেলে। তিনি পেশায় দর্জি ছিলেন। এ ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের ভাতিজা মুকুল মিয়া (৪৫) ও তার দুই ছেলে মহসিন হাসান (২৩) এবং জিহান হাসানকে (২০) আটক করেছে পুলিশ।
নিহতের ছেলে রাজন মিয়া জানান, আমাদের পরিবারের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে মুকুল মিয়ার দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই ক্ষোভে আমার বাবা আইয়্যুব আলীকে দু’দিন আগে হত্যার হুমকি দেন মুকুল মিয়া।
তিনি আরও জানান, আমার বাবা নকলা বাজারে দর্জির কাজ করে সংসার চালাতেন। প্রতিদিনের মতো দুপুরের খাবার টিফিন ক্যারিয়ারে করে সকাল ৯টায় বাড়ি থেকে নকলায় কাজ করতে দোকানে যান। কিন্তু গতরাতে বাড়ি ফিরতে দেরি হচ্ছিল। তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ ছিল। তাই পরিবারের সবাই চিন্তায় পড়ে যাই এবং বাজারে খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারি যে রাত ১০টার দিকে কাজ শেষ করে বাড়ির দিকে চলে আসেন তিনি। তখন সবাই মিলে বাবাকে খুঁজতে বের হওয়ার সময় বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে দেখি বাবার জুতা ও বাজারের ব্যাগ এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। জুতা আনতে গিয়ে দেখি মাটিতে অনেক রক্ত। সামনে গিয়ে দেখি একটি লাশের পায়ের অংশ পুকুরের পাড়ে এবং মাথার অংশ পানিতে ডুবে আছে। সবাই গিয়ে ধরাধরি করে তুলে দেখি আমার বাবার গলাকাটা লাশ। পরে আমরা থানায় খবর দেই। তখন পুলিশ বাবার লাশ থানায় নিয়ে যায়। ’
ছেলের দাবি, মুকুল মিয়া ও তার দুই ছেলে মিলে তার বাবাকে হত্যা করেছে। হত্যাকারীদের ফাঁসিও চান ছেলে রাজন।
শেরপুরের পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম জানান, আমরা রাতে সংবাদ পাই যে রুনীগাও মধ্যপাড়ায় আইয়্যুব আলী নামের এক ব্যক্তির লাশ পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিক পুলিশ গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতের সময় দেখতে পায় যে গলায়, বুকে ও চোখের ওপরে কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরিবারের প্রাথমিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা রাতেই তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসি। শুক্রবার ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।