কোটা সংস্কারের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের বাসভবনে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে ছাত্রলীগ। সোমবার দিবাগত গভীর রাতে দফায় দফায় হামলা চালায় তারা। হামলার একপর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়ালে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে গোটা ক্যাম্পাস।
জানা গেছে, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাত ৯টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলমের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা হামলার বিচারে দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরে গভীর রাতে তাদের ওপর হামলা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় কয়েকজন সাংবাদিকসহ অন্তত ২৫ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় কোটা আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এর প্রতিবাদে রাত ৯টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলমের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। ঘণ্টা দেড়েক পর উপাচার্য তার বাসা থেকে বেরিয়ে এসে হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে বিচারের আশ্বাস দেন। কিন্তু তাতে আশ্বস্ত হতে না পেরে আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনেই অবস্থান করেন। এর মধ্যে রাত ১২টার পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়।
পরে পুলিশ এলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা চলে যান। রাত পৌনে দুইটার দিকে আবার উপাচার্যের বাসভবনের ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এরপর আন্দোলনকারীদের মারধর করেন তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা পাল্টা ধাওয়া করে। দুই দলের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় গভীর রাতে ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পালিয়ে গেলে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদের সংঘর্ষ হয়।
এসময় পুলিশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে তিনজন সাংবাদিকসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। সবমিলিয়ে হামলা-সংঘর্ষে কয়েকজন সাংবাদিকসহ অন্তত ২৫ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এখনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।