শেরপুরে সুবিধা বঞ্চিত পথশিশু ও অসহায় দুস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি সোমবার বিকেলে রক্তসৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গারো পাহাড়ের পাদদেশ সীমান্তবর্তী শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার হালগড়া গ্রামে শতাধিক শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন রক্তসৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সমাজ-কর্মী রাজিয়া সামাদ ডালিয়া।
এ সময় রক্তসৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালাক মোঃ আল আমিন রাজু, রক্তসৈনিক ঢাকা জেলার সভাপতি এ.বি.এম মায়নুল হাসান রাসেল, রক্তসৈনিক শেরপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, রক্তসৈনিক শ্রীবরদী এর ম্যানেজমেন্ট সমন্বয়ক মোঃ সানজিমুল ইসলাম শাহীন, কুড়িকাহনিয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি জাকির হোসেন, ভেলুয়া ইউনিয়ন এর সভাপতি কাওছার আহমেদ, রক্তসৈনিক শেরপুর এর কার্যকরী সদস্য তানকিন হোসেন তুহিন, শ্রীবরদী উপজেলা শাখার কার্যকরী সদস্য রাশেদ মিয়া, মনির মিয়া, ঝিনাইগাতি এর কার্যকরী সদস্য রিমঝিম রিমিসহ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধ জমিলা বেগম বলেন, ‘আমি ভিক্ষা করি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে মানুষের কাছ থেকে যা পায় তাই নিয়ে চাল, ডাল কিনে কোনো মতে জীবন চলে’। এই যে শীত যাচ্ছে কেউ একটা শীতবস্ত্র (কম্বল) দেয়নি। পুরাতন ছেড়া খেতা গায়ে দিয়ে কোন মতে শীত পার করছি। আজ এই কম্বলই এবারের শীতের একমাত্র সম্বল।
৬০ বছর বয়সী সাইবালী বলেন, ‘ভিক্ষা করি না সম্মানের ভয়ে। বর্তমান সময়ে সব জিনিসের যে দাম সংসার চালানো যায়না এর মধ্যে লেপ-তোষক বানামু কেমনে। ৪ ছেলে –মেয়ে নিয়ে কোন মত খেয়ে পড়ে পুরাতন শীতবস্ত্র গায়ে দিয়েই রাত কাটায়। আজ শীতবস্ত্র পেয়ে খুব উপহার হলো।
রক্তসৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান রাজিয়া সামাদ ডালিয়া বলেন, প্রতিবছর শীতের সময় নানা কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকি। এই শীতেও আমাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্ঠা রয়েছে। তবে বছরে প্রথম দিনে দরিদ্র শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। আমাদের প্রত্যেকের সমাজ তথা দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে । আপনি আমি একা ভালো থাকবো আর প্রতিবেশী শীতে কষ্টে দিন কাটাবে এটা সুস্থ চিন্তার কথা নয়। মানুষ হিসেবে আসুন আমরা সবাই মানুষের পাশে দাঁড়ায়।