শেরপুর প্রতিদিন ডট কম

Home ময়মনসিংহ বিভাগ শেরপুর জেলা শেরপুরে বক্স বাজাতে নিষেধ করায় খুন হলো রিক্সা চালক
শেরপুরে বক্স বাজাতে নিষেধ করায় খুন হলো রিক্সা চালক

শেরপুরে বক্স বাজাতে নিষেধ করায় খুন হলো রিক্সা চালক

মেহেদী হাসান শামীম, স্ট্যাফ রিপোর্টার: শেরপুর শহরের সদরে গভীর রাতে উচ্চ শব্দে সাউন্ডবক্স বাজাতে নিষেধ করায় মোহাম্মদ আলী ওরফে মিন্না শেখ (৫৫) নামে এক রিকশাচালককে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।

এ ঘটনায় অসহায় এ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা সন্ত্রাসীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করেছেন। সারাদিন রিক্সা চালিয়ে বাসায় ফিরেছেন। ঘুমুতে গেছেন, কিন্তু উচ্চ শব্দে সাউন্ড সাউন্ড বক্স বাজানোর কারণে ঘুমুতে পারছিলননা শেরপুর শহরের পশ্চিম শেরী পাড়ার মিন্না সেখ। তার ঘরের সাথেই কবরস্থানে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী রাজিব, রাজন, সোহান, ও রবিউল করিম বক্স বাজাতে থাকে।

১ আগস্ট সোমবার ভোর রাতে বক্স বাজাতে বন্ধ করতে বললে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পেটের ভুরি করে দেয় মিন্না শেখের। পরে তাকে প্রথমে শেরপুর জেলা হাসপাতাল ও পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানেই তিনি ২ আগষ্ট মারা যায় দুই শিশু সন্তানের জনক মিন্না শেখ।

এ ঘটনায় মিন্না শেখের স্ত্রী নির্বাক। আর শিশু লামিয়ার প্রশ্ন এখন তাদের খাওয়াবো কে ? লেখা পড়াই বা করবো কিভাবে ? তাই সে চায় তার বাবার খুনিদের ফাঁসি হউক। একই দাবী স্বজনদের। অনেকেই এ সন্ত্রাসীদের ভয়ে মুখ খুলার সাহস পাচ্ছেনা। আবার অনেকের দাবী এমন জঘন্য হত্যা কান্ডের খুনীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দেয়া হউক। মিন্না শেখের স্ত্রী দুই শিশু সন্তানের দিন চলবে কীভাবে ? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মুখে মুখে। অসহায় এ পরিবারটির দায়িত্বই বা কে নিবে,
আর মামলাই চালাবে কে ?

নিহতের ছোট ভাই বিল্লাল হোসেন ও সেকান্দর আলী জানান, রাতের শুরু থেকেই সন্ত্রাসী বখাটেরা সাউন্ড বক্স বাজাচ্ছিলেন। গভীর রাতেও সাউন্ড না কমানোয় মিন্না ভাই তাদের নিষেধ করে। পরে এ নিয়ে তাদের সাথে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মোতালেবের ছেলে কবির (৫৫), কবিরের ছেলে রাজিব (৩৩) ও রাজন (২২), বাবুল মোল্লার ছেলে সোহান (২৮), মোজাম্মেলের ছেলে রবিউল করিম (৩২) আমাদের বাড়ীতে হামলা চালায় ও ভাইকে চাইনিজ কুড়াল ও রাম দা দিয়ে কোপ দেয়। এতে ভাইয়ের পেট কেটে ভুড়ি বের হয়ে যায়।

পরে ভাইকে কোচ (মাছ ধরার বিশেষ যন্ত্র) দিয়ে আঘাত করে। ভাইকে এই সন্ত্রাসীরা যেভাবে মেরে ফেললো, এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি। এদিকে সদর থানায় এ ঘটনায় পাঁচ সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের স্ত্রী। খুনীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ মাঠে নেমে পড়েছে বলে জানান শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বসির আহম্মেদ বাদল।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

twelve − seven =