শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শেরপুর পৌরশহরের শান্তি মিউজিক কর্নারের মালিক হারমনিয়াম ব্যবসায়ী নান্নু কুমার দাসকে (৩৩) র্যাব পরিচয়ে অপহরন করে তুলে নিয়েছে। পরে মুক্তিপণ দিলে তাকে রাস্তায় ফেলে যায়।
বুধবার (১২ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নান্নু কুমার দাস নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে পৌরশহরের টাউনবারোয়ারি মোড় থেকে তাকে তুলে নিয়ে রাতে মুক্তিপণ নিয়ে রাস্তায় ফেলে যায়।
নান্নু কুমার দাস জানান, মঙ্গলবার সকালে নান্নু দোকান খুলে কাজ করছিলাম। দুপুর ১২টার দিকে একটি সাদা হাইচ গাড়ি নিয়ে পাঁচজন লোক আমার দোকানের সামনে থামিয়ে আমার দোকানে প্রবেশ করে। আমাকে জানান, আমরা র্যাবের লোক। একথা বলে আইডিকার্ড দেখান। এরপরই তারা বলেন, সজল কোথায়। তখন আমি তাদের জিজ্ঞাসা করি কেন? কি হয়েছে? তখন র্যাবের পরিচয়কারীরা বলেন, সজল তোমার কাছে একটি মোটরসাইকেল রেখেছিল সেটা চোরায়। এ কথা বলেই তারা গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। চান্দাইকোনা পার হয়েই তিনজন আমাকে মারধর শুরু করে আর বলতে থাকে হয় সজল অথবা মোটরসাইকেল বের করে দিবি। তখন আমি সজলকে মোবাইলে কল দিলে সে বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করে।
তিনি বলেন, র্যাব পরিচয়কারীরা আমাকে টর্চার করার একপর্যায়ে মুক্তিপণের জন্য আমার কাছে টাকা দাবি করে। তখন আমি জীবন বাঁচাতে বাড়িতে মোবাইলে জানায়। আমার বাড়িতে ১০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠায় এবং আমার কাছে থাকা একটি দামি মোবাইল নিয়ে সিরাজগঞ্জের শিয়ালখোল এলাকায় রাতে ফেলে দিয়ে চলে যায়।
তিনি আরো জানান, গত এক মাস নয় দিন আগে জয়পুরহাট দুদ্যাল গ্রামের সুনিল চন্দ্র সরকারের ছেলে সজল আমার দোকানের সামনে একটি মোটরসাইকেল রেখে যায়। রাখার এক ঘণ্টা পর সে আবার নিয়েও যায়। এরপর মঙ্গলবার ১১ জুলাইন দুপুরে র্যাব পরিচয়ে আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে মুক্তিপণ ও মারধর করে রাস্তায় ফেলে যায়।
নান্নু কুমার দাসের বড় ভাই কানু চন্দ্র দাস জানান, দুপুরে শুনলাম নান্নু কুমার দাসকে র্যাব তুলে নিয়ে গেছে। এরপর তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। রাত্রিতে একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে কল দিয়ে বলে, ভাই আমি ন্নানু বলছি আমাকে বাঁচান, জীবিত চাইলে এই বিকাশে ১০ হাজার টাকা পাঠাও তারপর আমি টাকা পাঠায়। এর ১৫ মিনিট পর নান্নু বলে আমাকে সিরাজগঞ্জের শিয়ালখোল এলাকায় রাস্তায় তারা ফেলে দিয়ে চলে যায়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে আসে। তাকে টর্চার করায় তার এক পা ও এক হাত ফুলে গেছে।
এ বিষয়ে শেরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাবু কুমার সাহা জানান, কোনো অভিযোগ পায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।