শেরপুর প্রতিদিন ডট কম

Home ময়মনসিংহ বিভাগ শেরপুর জেলা একটি নারকেলগাছ নিয়ে শেরপুরে হুলস্থুল কাণ্ড
একটি নারকেলগাছ নিয়ে শেরপুরে হুলস্থুল কাণ্ড

একটি নারকেলগাছ নিয়ে শেরপুরে হুলস্থুল কাণ্ড

মেহেদী হাসান শামীম, স্ট্যাফ রিপোর্টার: শেরপুরে পুকুরপাড়ে থাকা একটি নারকেলগাছ পুকুরের মাঝখানে চলে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এর পর থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা নানা শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ ওই গাছটিকে একনজর দেখার জন্য প্রতিনিয়ত ভিড় করছেন। উৎসুক দর্শনার্থীরা বলছে, এটি একটি অলৌকিক ঘটনা। তাই রোগমুক্তির আশায় অনেকেই এই পুকুরের পানি বাড়িতে নিয়ে পান করছেন, কেউবা গোসল সারছেন।

তবে এটি কোনো আশ্চর্যজনক ঘটনা নয় বলে জানিয়েছেন জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সহকারী বন সংরক্ষক সাদেকুল ইসলাম খান ও শেরপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আল-মাহমুদ।

স্থানীয় হোসেন মাতব্বর ও আনোয়ার মিয়া বলেন, জেলা শহরের মধ্য শেরীপাড়া মহল্লার সালেহা কটেজের প্রয়াত ভাষা সৈনিক অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান ৪০ বছর আগে এই পুকুরের চারপাশে নারকেলগাছ রোপণ করেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে পুকুরের পাড়ে গাছগুলো থাকলেও ৩ জুলাই সোমবার রাতে হঠাৎ একটি গাছ পাড় থেকে সরে গিয়ে পুকুরের মাঝখানে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। আর পুরোনো গাছটির অবস্থানের এই পরিবর্তনে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কেউ বলছেন এটি অলৌকিক ঘটনা কেউবা বলছেন জিনের কারসাজি।

আব্দুল আওয়াল নামে একজন বলেন, “আগে এটি ছিল জমিদার পরিবারের ভিটা। একসময় এখানে মাঝেমধ্যে ভুতুড়ে কর্মকাণ্ড ঘটত। এতেই মানুষের বিশ্বাস আরও গাঢ় হয়। সেই বিশ্বাসে নারকেলগাছটি দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছে শিশু, বৃদ্ধসহ সব বয়সের উৎসুক মানুষ।”

স্থানীয় সাইফুল ইসলাম নামের একজন বলেন, “লোকমুখে জানতে পারি একটি নারকেলগাছ পুকুরের মাঝখানে চলে গেছে। প্রথমে আমি বিশ্বাস করিনি। এখন স্বচক্ষে ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে এটি বিরল ঘটনা। এখানে এসে দেখলাম শত শত মানুষ রোগমুক্তির আশায় ওই পুকুরের পানি পান করছেন, কেউবা কলসিতে ভরে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন।”

আয়েশা বেগম নামের একজন বলেন, “আমার পা ব্যথা। একটা মেয়ে পঙ্গু হয়ে গেছে। এ কারণে চার বোতল পানি নিয়ে গেলাম। এগুলো পান করব ও শরীরে মাখব।”

অন্যদিকে এটি কোনো আশ্চর্যজনক ঘটনা নয় বলে জানিয়েছেন জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সহকারী বন সংরক্ষক সাদেকুল ইসলাম খান ও শেরপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আল-মাহমুদ। তারা বলেন, “বুননের কারণে বালি ও এঁটেল মাটিসহ আরও ২-১ প্রকারের মাটি মুভমেন্ট হয়। কারণ স্থানভেদে নিচের স্তরের মাটি দুর্বল হলে ওপরের অংশ থেকে নিচের স্তরের মাটি মুভমেন্ট করে। তাই পুকুরের পাড় ভেঙে নারকেলগাছটি শিকড়ের মূল মাটিসহ গাছের অবস্থান পরিবর্তন হয়ে পানিতেও সোজা হয়ে এটি এখন দাঁড়িয়ে আছে।”


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × two =