শেরপুর প্রতিদিন ডট কম

Home ময়মনসিংহ বিভাগ শেরপুর জেলা সততার পরিচয় দিলেন শেরপুরের দরিদ্র রিক্সা চালক মোস্তফা
সততার পরিচয় দিলেন শেরপুরের দরিদ্র রিক্সা চালক মোস্তফা

সততার পরিচয় দিলেন শেরপুরের দরিদ্র রিক্সা চালক মোস্তফা

মুহাম্মদ আবু হেলাল, শেরপুর প্রতিনিধি : দিনকাল বদলে গেলেও সমাজের বিভিন্ন স্তরে হাজারও খারাপ মানুষের ভীড়ে এখনো লোভহীন, লালসাহীন কিছু মানুষের দেখা মেলে প্রায়শই। আর এসব ভাল মানুষের জন্যেই হয়তোবা টিকে আছে পৃথিবী। তাদের মধ্যে দরিদ্র ও গরীব রিক্সা চালক মোস্তফা’ একজন । কেননা, যার সারা দিনের ঘাম ঝরিয়ে আয় হয় ৩-৪ শত টাকা। অথচ সেই মোস্তফা তার রিক্সার সীটে অনেক দামী একটি আইফোন পেয়েও আত্মসাৎ না করে মোবাইলের মালিককে খোঁজে বের করে ফেরত দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। ঘটনাটি ঘটেছে ১৬ আগষ্ট মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শেরপুর পৌর শহরের নবীনগর এলাকায়।

মোস্তফার সর্ম্পকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সে নবীনগর এলাকার বাসিন্দা। সহায় সম্ভল বলতে তার কিছুই নেই। সারা দিন রিক্সা চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোন মতে চলে তার সংসার। কিন্তু সততার কাছে কখনো হার মানেননি। তার এ সততার জন্য মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় স্বাভাবিক ভাবে জীবন পার করছেন মোস্তফা । বেশী অর্থ না থাকলেও কোন কষ্ট নেই তার মনে।

এ ব্যাপারে দরিদ্র রিক্সা চালক মোস্তফার সাথে কথা হলে তিনি জানান, “ভাই আমি গরীব হতে পারি, তবে লোভী নই। অন্যের জিনিষের প্রতি আমার কোন লোভ নেই। আমি ওই মোবাইলটা বিক্রি করে হয়তোবা বেশ কিছু টাকা পেতাম, কিন্তু আমাকে তো মরতে হবে। আমি কবরে গিয়ে আল্লাহর কাছে কি জবাব দিবো? একজন সাধারণ রিক্সা চালকের মুখে এমন কথা শুনে মনে হলো পৃথিবীতে এখনও অনেক ভাল মানুষ আছে। যাহা আমরা সচারাচর দেখতে পাইনা। স্যালুট জানাই এমন সততা আর আদর্শবান মানুষদের।

মোবাইলের মালিক, নবীনগরের বাসিন্দা ও শেরপুর প্রতিদিনের প্রকাশক ও সম্পাদক সোহেল রানা’র বড় ভাই সরোয়ার হোসেন জানান, ফেইসবুকে মাঝে মধ্যেই কিছু সৎ মানুষের সততার খবর দেখতে পাই, কিন্তু আজ আমার সাথেই তেমন এক সৎ মানুষ তার সততার পরিচয় দিল যা সত্যিই অবাক করার মতো। আমার পাশে দাড়ানো লোকটি পেশায় একজন রিক্সাচালক নাম তার মোস্তফা বাড়ি নবীনগরেই, আমি তাকে আগে কখনোই চিন্তাম না।
কিছুক্ষণ আগে আমাদের মোড়ের একটি হোটেলের সামনে তার রিক্সাটা খালি অবস্থায় দাঁড় করানো ছিল। আমি খালি দেখে তার রিক্সায় বসে রুটি খাচ্ছিলাম। সে আশেপাশেই ছিল। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেই বসেছিলাম।
খাওয়া শেষ হলে চলে আসি কিন্তু মনের ভূলে আমার মোবাইলটা রেখে আসি তার রিক্সায়। আমি চলে আসার পর সে যখন রিক্সা নিয়ে চলে যাবে তখন তার সিটের উপর মোবাইলটাকে দেখে। সে ইচ্ছে করলে চলে যেতে পারতো কিন্ত সে তা করেনি মোবাইলটা নিয়ে আমার কাছে এসে বলছে ভাই আপনার মোবাইল রাখয়া আইসা পড়ছেন নেন।
আমি অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে শুধু এতোটুকুই বল্লাম ধন্যবাদ, সে চলে যাচ্ছিল এমন সময় মনে হলো আমি কি অকৃতজ্ঞ হয়ে যাচ্ছি তখনই তাকে ডেকে বললাম ভাই একটা ঠান্ডা খাও সে বলে আরে কি কন ঠান্ডা খাওয়া লাগব না, আমি জোড়াজুড়ি করে হাতের স্পিডটা ধরিয়ে দিলাম। তারপরও তৃপ্তি পাচ্ছিলাম না মনটা কেমন যেন ছোট হয়ে যাচ্ছিল তখন তাকে বললাম আসো তোমার সাথে একটা ছবি তুলি।
এদের মতো কিছু সৎ মানুষের সততা আছে বলেই আজও আমাদের এই সমাজ সচল আছে।
আমি তাকে মন থেকে দোয়া করি সে যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন তাকে যেন লোভ নামক ব্যধি কখনোই স্পর্স না করতে পারে। মহান রাব্বুলআলামিন যেন হালাল রুজির মাধ্যমে তার পরিবারকে সুখে শান্তিতে রাখেন। বেঁচে থাকুক সততা ও মানবতা।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

sixteen + one =