বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত পাল্টা শুল্ক কার্যকরের আগে শেষ দফার আলোচনা চলছে। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আজ বৃহস্পতিবারের (৩১ জুলাই) মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধিদের (ইউএসটিআর) সঙ্গে চলছে টানা বৈঠক। দলের অন্য সদস্যরা হলেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাজনীন কাউসার চৌধুরী।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ। পুরো আলোচনা সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশের দূতাবাস।
এর আগে, বৈঠকের প্রথম দিন মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত আলোচনা চলে। দ্বিতীয় দফা বৈঠক হয় বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত। আজ বৃহস্পতিবারও আলোচনা চলবে। তবে এখনো ঠিক হয়নি বাংলাদেশের জন্য শুল্কহার কত হবে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, এখনো চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। তবে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। আগের দফার অনিষ্পন্ন বিষয়গুলোর কিছু এখন সমাধানের পথে।
গত ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে। পরে তা তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখা হয়। তবে গত ৮ জুলাই ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি দিয়ে জানান, ১ আগস্ট থেকে শুল্কহার ৩৫ শতাংশ হবে। বর্তমানে গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্কে বাংলাদেশি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে যায়। নতুন হার কার্যকর হলে মোট শুল্ক দাঁড়াবে ৫০ শতাংশে।
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝাতে চেষ্টা করছে, দেশটি বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে দিচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানো হচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে নানা উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগামী পাঁচ বছর ধরে প্রতি বছর সাত লাখ টন গম কিনবে সরকার। সম্প্রতি ২ লাখ ২০ হাজার টন গম কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানিও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বোয়িংয়ের কাছ থেকে কেনা হবে ২৫টি উড়োজাহাজ। সরকার বেসরকারি খাতকেও উৎসাহ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা, সয়াবিন বীজ, ডাল ইত্যাদি পণ্য আমদানিতে।
সরকারি দলের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দলও যুক্তরাষ্ট্রে গেছে। এতে রয়েছেন বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, দুই পরিচালক মোশারফ হোসেন ও মাসুদ রানা, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আমিরুল হক প্রমুখ। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন।
আমিরুল হক জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলপিজি আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য কিছু দেশের শুল্ক চুক্তি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। যেমন—ভারতের জন্য শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ শতাংশ, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। ট্রাম্প বলেছেন, ভারত রাশিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জাম ও জ্বালানি কেনে, যা যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে নেতিবাচক।
ভিয়েতনাম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০ শতাংশ হারে, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন ১৯ শতাংশ এবং জাপান ১৫ শতাংশ শুল্কে চুক্তি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত হয়েছে ১৫ শতাংশ হারে।