শেরপুর সদরের লছমনপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বর এংরাজ আলী ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে মাদ্রাসায় হামলা ও বন্ধ করে দেয়ার হুমকির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয়রা।
সোমবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে লছমনপুর ইউনিয়নের জামতলা বাজারে এই বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।
এ সময় হুমকির মুখে থাকা ফারাজিয়া আল আরাবিয়া কওমী মাদ্রাসা ও ফারাজিয়া এতিমখানার শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) সকালে স্থানীয় এংরাজ মেম্বরসহ কয়েকজন মাদ্রাসায় প্রবেশ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং দোজা পীরের পক্ষে অবস্থান নিয়ে মাদ্রাসায় তালা দেয়ার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. তরিকুল ইসলাম রোববার (২৭ অক্টোবর) শেরপুর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
ওই ঘটনার জের ধরে আবারও হুমকি দেয়া হয়। এর প্রতিবাদেই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, মাওলানা মো. তরিকুল ইসলাম, মাওলানা মো. খোরশেদ আলম, মাওলানা মো. আবুল কাশেম, ইব্রাহিম খলিল, শহিদুল ইসলাম, মাওলানা মো. গোলাম রব্বানী, মো. হাফেজ মিয়া প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা দাবি করেন, ভণ্ড দোজা পীর এই এলাকায় ধর্মের নামে ব্যবসা করছে। তার ওরসে আগত নারী ভক্তদের পর্দার কোনো ব্যবস্থা নাই। এছাড়াও রোগাক্রান্ত মানুষদের পীরের পা ধোয়া পানি রোগ মুক্তির জন্য পান করতে দেয়া হয়। আস্তানার ভেতরে ছোট সেতুকে পুলসিরাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও ওরসে গাজার আসর বসানোসহ নানা ধরনের শিরকী কর্মকাণ্ড করে থাকে যা ধর্মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ইসলাম এ ধরনের কর্ম সমর্থন করে না। অথচ এই কর্মকাণ্ডের সমর্থন করে যাচ্ছেন স্থানীয় এংরাজ আলী, সুজন মাস্টারসহ কতিপয় দুস্কৃতকারী। যার ফলে স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নানা হুমকিতে রয়েছে।
এ দিকে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ হবার পর দোজা পীরের স্থানীয় প্রতিনিধি এংরাজ মেম্বরের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় আন্দোলনকারীদের দিকে আঙ্গুল তুলছেন ভুক্তভোগীরা।