দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুরে কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জামাদি পাঠানো শুরু হয়েছে। ৬ জানুয়ারি শনিবার দুপুর থেকে স্ব-স্ব সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে ওইসব সরঞ্জামাদি ও কেন্দ্রে খরচের টাকা সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে হস্তান্তর শুরু হয়। তবে শুধুমাত্র ব্যালট পেপার আগামীকাল ৭ জানুয়ারি রবিবার সকালে পাঠানো হবে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, শেরপুরের ৩টি আসনে মোট ৪২৪টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এসব ভোটকেন্দ্রে সর্বমোট ২ হাজার ৫৮৩টি ভোটকক্ষ রয়েছে। জেলায় মোট ভোটার রয়েছেন ১২ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ লাখ ১ হাজার ৪২৫ জন ও নারী ভোটার রয়েছেন ৬ লাখ ১৬ হাজার ৩২১ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৯ জন। জেলায় ১৭৩টি ভোটকেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ১৪৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১০৯টি ভোটকেন্দ্র সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচনে জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ২ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ৩ প্লাটুন বিজিবি, ২ প্লাটুন র্যাব, ৪ প্লাটুন আনসার ব্যাটালিয়ান সদস্য, প্রায় ১২শ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ১২ জন করে মোট ৫ হাজার ৮৮ জন আনসার ভিডিবি সদস্য ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব করবেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক জানান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর পাশাপাশি জেলায় মোট ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
শেরপুরের পুলিশ সুপার মোনালিসা বেগম পিপিএম-সেবা জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে থাকার পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে পুলিশ সদস্যরা। এছাড়া ব্যাটালিয়ান আনসারদের একটি অংশ পুলিশের সাথে কাজ করছে। একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর।
এ ব্যাপারে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল খায়রুম জানান, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ৩টি আসনে ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে শেরপুর-১ (সদর) আসনে ৭ জন, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে ৩ জন ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে ৬ জন প্রার্থী রয়েছেন।