শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এডিএম শহিদুল ইসলামের পক্ষে ভোট চাওয়ায় শেরপুরে ৪ বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। ৩০ ডিসেম্বর শনিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ওই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। বহিষ্কার আদেশপ্রাপ্ত ৪ জনের মধ্যে ৩ জনই বর্তমানে শ্রীবরদী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও একজন পৌর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা। বহিষ্কার আদেশপ্রাপ্তরা হলেন শেরপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও তাতিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আব্দুর রউফ, জেলা বিএনপির সদস্য ও কুড়িকাহনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ খান নুন, ভেলুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ভেলুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম এবং শেরপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ছানোয়ার হোসেন সেলু। এদিকে একসাথে ৩ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বহিষ্কার করায় বিএনপি নেতৃবৃন্দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন দুলাল বলেন, বহিস্কারাদেশ পাওয়া নেতারা দলীয় পদ-পদবী বহন করেও শেরপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এডিএম শহিদুল ইসলামের নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণ করে ভোট প্রার্থনা করছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন। আমরা তাদেরকে একাধিকবার সতর্ক করেছি। কিন্তু তারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে কাজগুলো করছেন বিধায় কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের এই আদেশ অন্যান্য নেতাকর্মীদের শিক্ষার অংশ হয়ে থাকবে।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ বলেন, আমাকে আর কত বহিষ্কার করবে? এর আগেও তো আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ খান নুন বলেন, আমাদের জেলা বিএনপির সভাপতিও এর আগে নৌকার পক্ষে কাজ করেছে। তখন দোষ হয় না? এ ব্যাপারে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবেন বলেও তিনি জানান। এছাড়া ভেলুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম নির্বাচনে অংশগ্রহণের করার কথা স্বীকার করেন।
তবে এই বহিষ্কারের আদেশের ব্যাপারে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।