শেরপুরের নকলায় গোরস্থানের রাস্তায় হেলে পড়া সাজনা গাছের ডাল ভাঙা নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে রাজু আহম্মেদ (৩৫) নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় জড়িত ইউপি সদস্য ও চৌকিদারসহ অন্যান্য আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার, বরখাস্ত ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন-প্রতিবাদ সমাবেশ পালিত হয়েছে। ১৮ ডিসেম্বর সোমবার দুপুরে নকলা পৌরশহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে এলাকাবাসীর আয়োজনে ঘন্টাব্যাপী ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মামলার বাদী নিহত রাজু মিয়ার ভাই রহুল আমিন (৬০) ও স্ত্রী অন্তরা খাতুন (৩০), একই গ্রামের প্রতিবেশি বেলায়েত হোসেন, সাজ্জাদ হোসেন, মোস্তফা কামাল, মহিউদ্দিন জুয়েল, শহীদুল ইসলাম, রহুল আমিন, সাবেক মেম্বার হাবিবুর রহমান বাচ্চু প্রমুখ।
বক্তারা হত্যার ঘটনায় জড়িত স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাবুল, আবু বাক্কার মুন্সী ও রেজাউলসহ অন্যান্য আসামিদের ফাঁসির দাবি জানান। তারা বলেন, ইউপি সদস্য বাবুল ও চৌকিদার রেজাউল এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তারা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তাঁদের অপকর্মের প্রতিবাদ করলেই চলে নির্যাতন।
মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। ওইসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া উম্মুল বানিন জানান, হত্যাকাণ্ডের মতো নৃশংস ঘটনাটি যে বা যারাই ঘটাক, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। দরিদ্র, অসহায় রাজুর স্ত্রী ও ৩ জন সন্তান রয়েছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজুর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করব।
এ ব্যাপারে নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের মিয়া জানান, মামলায় এজাহারনামীয় আসামি আবু বাক্কারকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, গত ১০ ডিসেম্বর নকলা উপজেলার পাইস্কা এলাকার গোরস্থানে মরদেহ দাফন শেষে বাড়ি ফেরার পথে সাজনা গাছের একটি ডাল ভাঙা নিয়ে একই গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে রাজু মিয়াসহ আহত হন অন্তত ১০ জন। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাজু মিয়া। এ ঘটনায় রাজুর ভাই রহুল বাদী হয়ে ইউপি সদস্য বাবুল ও চৌকিদার রেজাউল এবং একই গ্রামের আবু বাক্কার সিদ্দিক মুন্সীসহ ৭ জনকে স্বনামে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে নকলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আবু বাক্কার মুন্সী নামে একজন গ্রেফতার হলেও প্রধান আসামি বাবুল মিয়া, রেজাউলসহ বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।