শেরপুর প্রতিদিন ডট কম

Home আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প: পাকিস্তানের সাহায্য নিতে অস্বীকৃতি আফগানিস্তানের
ভূমিকম্প: পাকিস্তানের সাহায্য নিতে অস্বীকৃতি আফগানিস্তানের

ভূমিকম্প: পাকিস্তানের সাহায্য নিতে অস্বীকৃতি আফগানিস্তানের

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে সপ্তাহখানেক আগে আঘাত হেনেছিল শক্তিশালী ভূমিকম্প। ৬ দশমিক ৩ মাত্রার সেই ভূমিকম্পে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়।

পরে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রতিবেশী পাকিস্তান থেকে সহায়তা পাঠানো প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার। শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পাকিস্তানের কাছ থেকে সাহায্য গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। মূলত সাম্প্রতিক নানা ইস্যুতে এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনার কারণে তাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে।

গত শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে ওই ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পর পাঁচটি বড় ধরনের আফটারশক হয়েছে; যার কেন্দ্রস্থল ছিল ওই অঞ্চলের বৃহত্তম শহরের কাছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুসারে, পশ্চিম আফগানিস্তানে ছয়টি ভূমিকম্প হয়েছে এবং যার মধ্যে সবচেয়ে বড়টি ছিল ৬.৩ মাত্রার। এরপর গত বুধবার এই অঞ্চলে আরেকটি ভূমিকম্প হলে আরও ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এই ঘটনায় পাকিস্তান বেশ দ্রুত আফগানিস্তানে সাহায্য পাঠানোর পদক্ষেপ নেয়। এমনকি পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারুল হক কাকার প্রয়োজনীয় সাহায্যের পাশাপাশি ত্রাণ ও উদ্ধার দল পাঠানোর মাধ্যমে দ্রুত সহায়তার প্রস্তাব দেন।

তবে কাবুল পাকিস্তানের এই সহায়তা নিতে অস্বীকার করার পর সাহায্যের চালান এবং উদ্ধারকারীদের আফগানিস্তানে পাঠানো হয়নি। যদিও উভয় দেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি, তারপরও দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আফগানিস্তানের সহায়তা প্রত্যাখ্যানের প্রধান কারণ বলে মনে হচ্ছে।

এ বিষয়ে এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকে বলা হয়েছে, যেহেতু ইরানের কাছাকাছি হেরাত প্রদেশে ভূমিকম্প আঘাত হানে, তাই লজিস্টিক কারণে পাকিস্তানের পক্ষে তাদের দল এবং পণ্য পাঠানো সম্ভব হয়নি। এছাড়া ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পাঠানো সাহায্য বিতরণে আফগান কর্তৃপক্ষের সক্ষমতার অভাবকে আরেকটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে জানা গেছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পাকিস্তান ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল এবং সাহায্য না পাঠানোর মূল কারণ হচ্ছে পাকিস্তানের কাছ থেকে আফগান তালেবানদের এসব সহায়তা গ্রহণে অনীহা। মূলত পাকিস্তানে নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি এই পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামাবাদের ধারাবাহিক আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্কটিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে, পাকিস্তানে বসবাসরত সমস্ত অবৈধ আফগান অভিবাসীদের দেশ থেকে চলে যেতে বলা, আফগানদের জন্য ভিসা নীতি এবং আফগান আমদানির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ।

বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বালোচ বলেন, পাকিস্তান তার আফগান ভাই ও বোনদের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করছে। কারণ তারা কয়েকদিন আগে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের কারণে খুব কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।

উল্লেখ্য, অবৈধভাবে প্রবেশ করা ১৭ লাখ ৩০ হাজার আফগান অভিবাসীকে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে পাকিস্তান ত্যাগের বিষয়ে সম্প্রতি নির্দেশ দেয় পরমাণু শক্তিধর এই দেশটির সরকার।

দেশটির সরকার বলছে, অক্টোবরের মধ্যে সব অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে নিজ দেশে ফেরত যেতে হবে। এরপর থেকে অভিযানে নামবে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। সে সময় যদি কোনও অবৈধ অনুপ্রবেশাকারী ধরা পড়েন, তাহলে তাদেরকে জোর করে নিজেদের দেশে পাঠানো হবে।

মূলত চলতি বছর পাকিস্তানে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। দেশটির থিংকট্যাংক সংস্থা পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৭১টি আত্মঘাতী, বোমা ও বন্দুক হামলা ঘটেছে।

পাকিস্তানের নিষিদ্ধঘোষিত তালেবানপন্থি দল তেহরিক-ই তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) বিরুদ্ধে এসব হামলা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। দেশটির পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এসব হামলার ক্ষেত্রে ব্যপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে নিবন্ধনবিহীন আফগান শরণার্থীদের।

এছাড়া খাইবার-পাখতুনখাওয়া প্রদেশে চলতি বছর ৩ হাজার ৯১১ জন আফগান নাগরিক বিভিন্ন অপরাধে জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রদেশটির পুলিশ প্রধান বলেছেন, খাইবার-পাখতুনখাওয়াতে হওয়া আত্মঘাতী হামলার ৭৫ শতাংশই চালিয়েছে আফগান নাগরিকরা।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

eighteen + 10 =