সোহেল রানা, শেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুর শহরের প্রায় অর্ধশতাধিক জায়গা থেকে প্রতিনিয়ত নির্গত হচ্ছে সঞ্চালন লাইনের গ্যাস। স্বাভাবিক দিনগুলোতে অদৃশ্য থাকলেও বৃষ্টির পানি জমলে স্পষ্ট বোঝা যায় নির্গত হওয়া গ্যাসের উপস্থিতি। এ নিয়ে প্রতিটি মুহূর্তে আতঙ্কে কাটে শহুরে নাগরিক জীবন। অভিযোগ করেও প্রতিকার না পেয়ে ক্ষুব্ধ অনেকেই। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেও না দেখার ভান করছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
মাসের পর মাস মাটির নিচের সরবরাহ লাইনের গ্যাস বুদবুদ আকারে বেরিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টিতে রাস্তার খানা-খন্দে পানি জমলেই শেরপুর শহরের প্রধান সড়কসহ প্রায় প্রতিটি মহল্লায় দেখা যায় এই দৃশ্য। এতে একদিকে যেমন গ্যাসের অপচয় হচ্ছে অন্যদিকে বড় রকমের দুর্ঘটনার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন মানুষ। অথচ কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই।
পানি জমে থাকলে মারাত্মক এই দাহ্যপদার্থ গ্যাসের উৎস খুঁজে বের করা সহজ। তাই বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই ত্রুটিযুক্ত সঞ্চালন লাইনগুলো শনাক্ত এবং সঠিকভাবে মেরামত করে শেরপুরবাসীকে বড় রকমের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষার দাবী স্থানীয়দের।
গৃর্দ্দানারায়নপুর এলাকার বাসিন্দা ফয়সাল আহম্মেদ তোতা বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে কয়েক মাস ধরে দিন রাত গ্যাস বের হচ্ছে। এখানে ম্যাচ খোঁচা দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি এটা মাটির নিচ দিয়ে যাওয়া লাইনের গ্যাস। যেকোনো সময় বড় রকম দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে এগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করার দাবি জানাচ্ছি।’
শহরের বাগরাকসা এলাকার এক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার বাসার সামনের রাস্তায় কয়েক মাস হলো মাটির নিচ থেকে সারাক্ষণ বুদবুদ আকারে গ্যাস বের হয়। প্রায় মাস খানেক আগে এলাকার ছেলেরা কৌতূহলবসত ম্যাচ জ্বালালে সেখান আগুন ধরে যায়। এটি দেখে আমি আতঙ্কিত হয়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানালে সেখান থেকে দুইজন লোক এসে উল্টো আমাকে অকথ্য ভাষায় বকাবকি করে চলে যায়।’
শেরপুরের নাগরিক প্ল্যাটফর্ম জনউদ্যোগের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সরবরাহ লাইনের সব ত্রুটি শনাক্ত করে দ্রুত মেরামত না করলে যেকোনো সময় শেরপুরবাসী ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে।’
পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলেন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী দুর্জয় খকসী।
তিতাস গ্যাসের তথ্য অনুযায়ী, শেরপুরে চার হাজার দুইশত গ্রাহক এবং প্রায় ১২ কিলোমিটার ডিস্ট্রিবিউশন লাইন রয়েছে।