শেরপুর প্রতিদিন ডট কম

Home ময়মনসিংহ বিভাগ শেরপুর জেলা শেরপুর-২: মতিয়ার বিকল্প নেই আ. লীগে, বিএনপিতে প্রার্থিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা
শেরপুর-২: মতিয়ার বিকল্প নেই আ. লীগে, বিএনপিতে প্রার্থিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা

শেরপুর-২: মতিয়ার বিকল্প নেই আ. লীগে, বিএনপিতে প্রার্থিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা

সোহেল রানা, শেরপুর প্রতিনিধি:  নকলা ও নালিতাবাড়ী নিয়ে গঠিত হয়েছে শেরপুর-২ আসন। আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে কে কোন দল থেকে প্রার্থী হবেন- তা নিয়ে সর্বত্র আলোচনা-পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য উপনেতা মতিয়া চৌধুরীই যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সে বিষয়ে সবাই নিশ্চিত। বলা হয়ে থাকে, এ আসনে মতিয়া চৌধুরীর বিকল্প নেই আওয়ামী লীগে।
তবে বিএনপিতে এ আসনে প্রার্থিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এমনকি বিএনপি থেকে যারা প্রার্থী হতে চান তাদেরও কোনো তৎপরতা নেই বললেই চলে। আর আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন লাভের আশায় সাবেক সিনিয়র সচিব ও এসডিএফের বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ ফারুক মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রতিনিয়ত। নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোকছেদুর রহমান লেবু প্রার্থী হতে চান বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এ আসনে মতিয়া চৌধুরীই হলেন আওয়ামী লীগের কান্ডারি এমনটাই প্রায় সবাই নিশ্চিত। মতিয়া চৌধুরী এ সংসদীয় আসনের দুই উপজেলার কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে দফায় দফায় কয়েক কোটি টাকার শিক্ষা প্রণোদনা বিতরণ করেছেন। পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে গত প্রায় পঁচিশ বছরে করেছেন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন।

বিএনপি থেকে এ আসনে যারা প্রার্থী হতে চান তাদের কোনো তৎপরতা তেমন একটা নজরে পড়ে না। এমনকি দলটির নেতাকর্মীরা স্থানীয়ভাবে দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিও পালন করেন না। কেউ কেউ অবশ্য জেলার কর্মসূচিতে অংশ নেন। তবে সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ কিছু কার্যক্রম ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন নিউইয়র্ক প্রবাসী বিএনপি নেতা ইলিয়াস খান, জাপান প্রবাসী বিএনপি সমর্থিত ব্যবসায়ী দুলাল চৌধুরী এবং নালিতাবাড়ী শহর বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন ভিপি। এ ছাড়াও অনেকেই সাবেক হুইপ জাহেদ আলী চৌধুরীর স্ত্রী ফরিদা চৌধুরী এবং তার ছেলে ফাহিম চৌধুরীর নাম প্রকাশ করলেও কার্যত তারা একেবারেই মাঠের বাইরে রয়েছেন।
অন্যদিকে জাতীয় পার্টি থেকে এখনও কোনো উল্লেখযোগ্য প্রার্থীর প্রচারণা লক্ষ্য করা যায়নি। বলা চলে এ আসনে অনেকটাই স্তিমিত জাতীয় পার্টির রাজনীতি। এর মধ্যেও অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যায়।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে ইতিমধ্যেই দুজনের নাম উঠে এসেছে। তারা হলেন-ইসলামী আন্দোলন নালিতাবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবু বক্কর ও উপজেলা শাখার ওলামা কল্যাণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কায়েশ। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের মধ্যে একজন হাতপাখা প্রতীক নিয়ে অংশ নিতে যাচ্ছেন। দুই উপজেলা মিলিয়ে সংসদীয় এ আসনে তাদের অনুসারীর সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সংসদ উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী  বলেন, শুধু ভোট এলেই নয়, সারা বছরই আমি নির্বাচন করি। আমার ওপর ভোটারদের আস্থা রয়েছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। অন্য কেউ দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হলে সে বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।

এ সময় তিনি তার সময়ে এবং তার প্রচেষ্টায় বাস্তবায়িত নাকুগাঁও স্থলবন্দর, মধুটিলা ইকোপার্ক, ভোগাই রাবার ড্যাম, কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল কাম ট্রেনিং সেন্টার, বরুয়াজানি শহিদ মুক্তিযোদ্ধা কলেজ, মরিচপুরান টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দুটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) ও আলুবীজ হিমাগারসহ উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরে বলেন, এলাকার উন্নয়নে যখন যা প্রয়োজন তা করেছি এবং করব।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া উপকমিটির সদস্য, সাবেক সিনিয়র সচিব ও এসডিএফের চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ ফারুক  বলেন, দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির বিষয়ে আমার শতভাগ আস্থা রয়েছে এবং আমি বিজয়ী হব।
কেন ভোটাররা আপনাকে ভোট দেবে বলে মনে করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তরুণদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, রেললাইন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও প্রকৌশল কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং পর্যটন কেন্দ্রসহ ৬০টি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।
অনেকেই বলে আপনি নির্বাচিত হলে আপনার আত্মীয়-স্বজনদের প্রভাব বেড়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষ নিগৃহীত হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৩৬ বছর ধরে সরকারের কাজ করছি। কে কি করতে পারে এ সম্পর্কে ধারণা রয়েছে। কাজেই সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করার সামর্থ্য ও যোগ্যতা আমার রয়েছে।

নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোকেছদুর রহমান লেবু  বলেন, ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করেছি। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আমি দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম, এবারও মনোনয়ন চাইব। আশা করি, সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মূল্যায়ন করবেন। এ সময় তিনি দলীয় যেকোনো সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কাজ করার ইচ্ছাও পোষণ করেন।
অন্যদিকে নিউইয়র্ক বিএনপির নেতা এবং নিউইয়র্ক প্রবাসী ইলিয়াস খান বলেন, সাবেক এমপি ও হুইপ জাহেদ আলী চৌধুরীর মৃত্যুর পর নকলা ও নালিতাবাড়ী বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়েন। এমতাবস্থায় তাদের আপদে-বিপদে, সুদিনে-দুর্দিনে আমি সবসময় পাশে থেকেছি এবং তাদের নিয়ে সেখানে দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। সে কারণেই আমি মনে করি, দলের নেতাকর্মীরা আমাকে সমর্থন দেবেন এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আমাকে মূল্যায়ন করবেন।
বিএনপি সমর্থিত জাপান প্রবাসী ব্যবসায়ী দুলাল চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নকলা এবং নালিতাবাড়ী বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিভাবকশূন্য। মামলা-মোকদ্দমা মোকাবিলা থেকে শুরু করে করোনাকালীন সহায়তা এবং সব ধরনের কার্যক্রমে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে রয়েছি। দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী আমাকে সমর্থন করেন। আমি একজন ব্যবসায়ী। দলকে ভালোবাসি, দলের প্রয়োজনে কাজ করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও কাজ করে যাব। সে ক্ষেত্রে দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে তা হলে অবশ্যই দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। দলের জন্য, দেশের জন্য কাজ করাই আমার উদ্দেশ্য।
নালিতাবাড়ী শহর বিএনপির আহ্বায়ক এবং সাবেক পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন ভিপি  বলেন, আমাদের অভিভাবক জাহেদ আলী চৌধুরীর মৃত্যুর পর আমরা অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছি। দুঃসময়ে আমি দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যেই যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের কেউ জাপান প্রবাসী কেউ বা অন্য জেলার বাসিন্দা এবং নিউইয়র্ক প্রবাসী। আমি স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই আমি বিশ্বাস করি, দল আমাকে মনোনয়ন দিলে জনগণের ভোটে বিজয়ী হব।
ইসলামী আন্দোলন নালিতাবাড়ী উপজেলা শাখার শাখার ওলামা কল্যাণ সম্পাদক এবং শহর শাখার সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল কায়েশ  বলেন, কেন্দ্র থেকে আমাদের দুজনকে ডেকে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত দেবে আমরা তা মেনে কাজ করব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

three + nineteen =