শেরপুর প্রতিদিন ডট কম

Home ময়মনসিংহ বিভাগ শেরপুর জেলা শেরপুরে মিলছে বিদেশি ফল ‘কোকোয়া’
শেরপুরে মিলছে বিদেশি ফল ‘কোকোয়া’

শেরপুরে মিলছে বিদেশি ফল ‘কোকোয়া’

মেহেদী হাসান শামীম, স্ট্যাফ রিপোর্টার: শেরপুরের ঝিনাইগাতীর বনাঞ্চলে প্রথমবারের মতো চাষ হচ্ছে বিদেশি ফল কোকোয়া। এটি মূলত দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন উপত্যকার উদ্ভিদ। এর বীজ থেকে চকোলেট ও কফি কাঁচামাল তৈরি হয়। কোকো বা কোকোয়া মধ্য আমেরিকার আরো কয়েকটি দেশে এর চাষ হচ্ছে।

উপজেলার বন্দবাটপাড় এলাকার কৃষক ও কোকোয়া ফলের বাগান মালিক জালাল উদ্দীন বলেন, কোকোয়ার ফুলগুলো আকারে ছোট, হালকা গোলাপি অথবা সাদা রঙের হয়। পাকা ফলের ভেতরে পেপের মতো ফাঁকা আর কয়েকটি সারিতে ছোট ছোট বীজ থাকে। একটি গাছে শতাধিক ফল ধরে। প্রতিটি ফলে প্রায় ৩০টির মতো বীজ থাকে। যা খেতে মিষ্টি।

জালাল উদ্দীন জানান, তিনি দীর্ঘ ১০ বছর মালয়েশিয়ায় চাকরি করেন। প্রবাস জীবন শেষে ১৯৯৮ সালে দেশে ফিরে আসেন। আসার সময় তিনি নিয়ে আসেন কোকোয়া বীজ। সেই থেকে শুরু কোকোয়া চাষ। এখন এটি ফল দিচ্ছে। একেকটি গাছে শতাধিক ফল আসে। বর্তমানে তার বাগানে প্রায় হাজারখানেক চারা রয়েছে। আর মালয়েশিয়া থাকাকালীন এ বীজ দিয়ে চকলেট, কফি, কেক, বিস্কুট, আইসক্রিম তৈরি হয়। এমন একটি কারখানায় তিনি চাকরিও করেছেন।

কোকোয়া বীজের প্রসেসিং সম্পর্কে জালাল উদ্দীন বলেন, পাকলে ফলের রঙ হয় লাল আবার কোনোটা হয় গাঢ় হলুদ। ফলের ভেতরের বীজ বের করে শুকাতে হয়। তারপর এটিকে গুঁড়া করতে হয়। এর গুঁড়া থেকেই চকোলেট তৈরি হয়। বছরে ২-৩ বার ফল সংগ্রহ করতে হয়। কোকোয়া গাছ শীতল ও গরম হাওয়া কোনোটাই সহ্য করতে পারে না। তাই হালকা রোদ পড়ে এমন ছায়াযুক্ত জায়গায় ভালো হয়।

পুষ্টিবিদ খোকন আহমেদ বাদল বলেন, এর বীজে আছে থিওব্রোমাইন, ক্যাফেন ও রঙিন বস্তু। সাবির্কভাবে বীজ উত্তেজক ও মূত্র রোগে বেশ উপকারী। থিওব্রোমাইন স্নায়বিক রোগের টনিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। হৃদজনিত রোগে এনজাইমা পেক্টোরিসর ব্যথা উপশম করতে পারে এই ফল। এছাড়াও চকোলেটের ফ্ল্যাভানল সমৃদ্ধ কোকোয়া মিল্ক ক্লান্তি দূর করতে, ইনসোমনিয়া প্রতিরোধে এমনকি শরীরের চামড়া টানটান রাখে যা বাধর্ক্য দূর করতেও কাজ করে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন দিলদার বলেন, কোকোয়া বিদেশি ফল হলেও গত এক দেড় দশক ধরে আমাদের দেশেও চাষ হচ্ছে। এটি ছায়াযুক্ত জায়গাতেও হয়। কোকোয়ার বাগানে মিশ্র ফসল হিসেবে আদা, হলুদ ভালো ফলন হয়। এ ফল চাষে ও চারা উৎপাদনে জামাল উদ্দীনকে নিয়মিত পরামর্শ সেবা দেওয়া হচ্ছে।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

19 − 5 =