শেরপুর প্রতিদিন ডট কম

Home শেরপুর জেলা ঝিনাইগাতি ঝিনাইগাতীতে নিত্যপণ্যের দাম চড়া, ক্রেতাদের নাভিশ্বাস
ঝিনাইগাতীতে নিত্যপণ্যের দাম চড়া, ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

ঝিনাইগাতীতে নিত্যপণ্যের দাম চড়া, ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

মুহাম্মদ আবু হেলাল, শেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে যেন সবজির বাজারে আগুন লেগেছে। ক্রমেই নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের। কষ্ট বেড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষদের।

জানা গেছে, ঝিনাইগাতী উপজেলায় দিন-দিন বেড়েই চলেছে কাঁচা বাজারের পাশাপাশি মাছ, গোস্ত, শুকনা মরিচ, চিনি,আদা,তেল,জিরা,ডিমসহ বিভিন্ন পন্যের দাম। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ পড়েছে বিপাকে। অনেকে হাটে এসে সামান্য কাঁচা বাজার করে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। আবার অনেকে বাধ্য হয়ে বেশি দামেই বাজার করে নিয়ে যাচ্ছেন। ক্রেতাদের অভিযোগ,নিয়মিত বাজার মনিটরিং না করায় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। 

উপজেলার হলদীগ্রাম চৌরাস্তা বাজার, ধানশাইল বাজার,বাঁকাকুড়া বাজার, তিনানি বাজার, কালিবাড়ী বাজার, রাংটিয়া বাজার, নকশি বাজার ও উপজেলা সদর কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, সবজির দাম শুনতেই আতকে উঠছে ক্রেতারা। বাজারে বেগুন ৭০ টাকা,দেশী ছোট আলু ৬০ টাকা, বড় হলেন্ডার আলু ৫০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, পিঁয়াজ ৭০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২৬০ টাকা, কুমড়া ৬০ টাকা, পুইশাক ৩৫ টাকা, শশা ৫০ টাকা, শুকনা মরিচ ৬৫০ টাকা, রসুন ১৫০ টাকা, আদা ৪০০ টাকা, জিরা ১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

অন্যদিকে- বাজারে রুইমাছ ২৮০ টাকা, কাতলা মাছ ৩৫০ টাকা, সিলভার মাছ ২২০ টাকা, টেংরা মাছ ৬০০ টাকা, চিংরী মাছ ৬০০ টাকা, পাঙ্গাশ মাছ ২০০ টাকা, গরু ৮০০ শ টাকা ও খাসি গোস্ত ১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

আয়-রোজগার না বাড়লেও সবকিছুর দাম উর্দ্ধগতির জন্য মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষের বেঁচে থাকা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। 

ঝিনাইগাতী হাটে বাজার করতে আসা নিম্ন আয়ের ক্রেতা তাহের উদ্দিন জানান, তিনি বাজার করতে এসে তরকারির দাম শুনে হতাশ হয়ে সামান্য বাজার করে বাড়ি ফিরছেন। তিনি সারাদিন কাজ করে পারিশ্রমিক পান মাত্র ৪শ টাকা, বাজারে জিনিসের দাম যেভাবে বাড়ছে আমরা গরীব মানুষ এত দামের মাছ ও সবজি কিভাবে কিনে খাব বলে চরম হতাশা ব্যাক্ত করেন। 

বাজার করতে আসা কুদ্দুস নামের আরেকজন বলেন, মাছের বাজারে গিয়ে আধা কেজি চিংড়ি মাছ কিনেছি ৩শ টাকা দিয়ে, এক কেজি বেগুন কিনেছি ৭০ টাকা দিয়ে। যেভাবে দিন-দিন তরকারিসহ জিনিসের দাম বাড়ছে তাতে মানুষের কষ্ট বেড়ে গেছে। 

এ ব্যাপারে কাঁচামাল ব্যবসায়ী কাসেম আলী ও মুক্তার  হোসেন জানান, তারা পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে মাল কিনে খুচরা দামে বিক্রি করছেন। পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় তারা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

জনদুর্ভোগ লাঘবে সচেতন মহল সরকারি ভাবে বাজার মনিটরিংসহ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

seven − 2 =