শেরপুর প্রতিদিন ডট কম

Home শেরপুর জেলা শ্রীবরদী পুঁজির অভাবে শেরপুরে কমছে চাঁই কারিগর
পুঁজির অভাবে শেরপুরে কমছে চাঁই কারিগর

পুঁজির অভাবে শেরপুরে কমছে চাঁই কারিগর

শ্রীবরদী প্রতিনিধি: বর্ষা মৌসুমকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন শেরপুরের মাছ ধরার ফাঁদ চাঁই তৈরির কারিগররা। বাঁশ-সুতাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অল্প পুঁজিতে চাহিদা অনুযায়ী তৈরি করতে পারছেন না এই ফাঁদ। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে দিন দিন কমছে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের সংখ্যা। তবে, সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা বিসিকের কর্মকর্তা।

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার দহের পাড়, ছেউরিয়া, ছেউরিয়া কান্দাসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস মাছ ধরার ফাঁদ চাঁই তৈরি করা। এখানকার প্রায় প্রত্যেকটি মানুষ তাদের জীবনের বেশীর ভাগ সময় পার করেছেন এই চাঁই তৈরি করে।


এখানে নারী-পুরুষ এমনকি শিশুরাও পড়ালেখার ফাঁকে এ কাজ করেন। পুরুষরা তৈরি করেন বাঁশের কাঠি, আর নারী ও শিশুরা প্লাস্টিকের চিকন রশি দিয়ে বুনে তৈরি করেন এসব চাঁই। বর্ষা এলেই বেড়ে এই চাঁই এর কদর। ফলে ব্যস্ততাও বেড়ে যায় এখানকার মানুষের। তবে বাঁশ ও সুতার দাম বৃদ্ধিতে পুঁজির অভাবে নাজেহাল দশা তাদের।
দহের পাড় গ্রামের ষাটোর্ধ্ব আব্দুস সাত্তার সময় সংবাদকে জানান, পুঁজির অভাবে চাঁই তৈরির কাজ সঠিকভাবে চালিয়ে যেতে পারছেন তারা। তবে সরকার থেকে আর্থিক সহায়তার দাবি জানান তারা।
ওই এলাকার চাঁই ব্যবসায়ীরা জানান, আর্থিক সংকটের কারণে পাইকারীভাবে চাঁই সংগ্রহ করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমান বাজার মূল্যের কারণে আগের পুঁজিতে সমপরিমাণ পণ্য তারা কেনা-বেচা করতে পারছেন না। তবে সহজ শর্তে সরকারি ঋণ পেলে তারা এই ব্যবসাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে বলে আশা তাদের।

শ্রীবরদী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের চাঁই কারিগরদের জীবনমান উন্নয়নে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক বিজয় কুমার দত্ত।

বিসিকের তথ্যমতে, পাঁচ ধরনের চাঁই তৈরিতে প্রকারভেদে খরচ হয় ৩০ থেকে ৪০০ টাকা। আর এসব চাঁই পাইকারি বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। জেলায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ সরাসরি এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 × 1 =