শেরপুর প্রতিদিন ডট কম

Home ময়মনসিংহ বিভাগ শেরপুর জেলা শেরপুর মেয়রের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ২১ অভিযোগ
শেরপুর মেয়রের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ২১ অভিযোগ

শেরপুর মেয়রের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ২১ অভিযোগ

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি : পৌরসভার মালিকানাধীন বিভিন্ন দোকান বরাদ্দে অনিয়ম, মাস্টাররোল কর্মচারী নিয়োগে স্বেচ্ছাচারিতা, জিপগাড়ি মেরামতে দুর্নীতি, ভুয়া বিল-ভাইচার দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎসহ পৌরসভার তহবিল তছরুফের অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার শেরপুর পৌরসভার মেয়র ও বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা জানে আলম খোকার বিরুদ্ধে। ২১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উল্লেখ করে পৌরসভার সান্যালপাড়া এলাকার নাজমুল হক লুলু গত ৯ই এপ্রিল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য পরিচালক স্থানীয় সরকার বিভাগীয় কমিশনার রাজশাহীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত ১৪ই মে তারিখে উপ-সচিব আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে তদন্তের বিষয়টি জানানো হয়েছে। যদিও মেয়র জানে আলম খোকা এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। এদিকে লুলুর দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিধিবহির্ভূতভাবে অটোরিকশা থেকে টোল আদায়ের ইজারা বাবদ বছরে ১৪ লাখ টাকা গ্রহণ।

বাসস্ট্যান্ডের ৮টি দোকানঘর লিজ বাবদ ৪০ লাখ টাকা, ধুনট মোড়ে দোকানঘর লিজ বাবদ ১০ লাখ টাকা, পৌর ট্রাক টার্মিনালে ৪টি দোকানঘর নির্মাণ কারে দেয়ার জন্য রফিকের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা, বারদুয়ারি মার্কেটে ৪টি দোকানঘর বাবদ ২০ লাখ টাকা, একজনের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন মেয়র। তিনি এসব টাকা থেকে মেয়র পৌরসভার তহবিলে কোনো টাকা জমা দেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া মাস্টার রোলে লেবার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও অর্থ গ্রহণ করা, জিপগাড়ি মেরামত বাবদ ১০ লাখ টাকা খরচ দেখানো এবং গাড়ি ব্যবহার না করেই তেলের অতিরিক্ত খরচ নেয়ার কথাও বলা হয়েছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ আছে মেয়র খোকা ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন করেছেন।

পৌর কিচেন মার্কেটে কক্ষ বরাদ্দের জন্য অতিরিক্ত টাকা নিয়েছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন পৌরসভার কয়েকজন কাউন্সিলর।

 

তারা বলেন, ২০২২ সালের ১৯শে অক্টোবর ট্রাক, বাস ও সিএনজি টার্মিনাল টেন্ডার আহ্বান করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ দরদাতাকে ট্রাক ও সিএনজি মোতাবেক ইজারা দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস টার্মিনালের ইজারা মূল্য ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও কোনো ইজারাদার পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও টার্মিনাল ইজারা কমিটির সভাপতি নাজমুল আলম বলেন, মেয়রের বিরুদ্ধে নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়গুলো তদন্ত করার জন্য ইতিমধ্যেই মন্ত্রণালয় থেকে পরিচালক স্থানীয় সরকার বিভাগীয় কমিশনার রাজশাহীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে এখনো তদন্ত করতে কেউ আসেননি। তিনি বলেন, শেরপুর বাস টার্মিনালের ইজার কমিটির দায়িত্বে আমি আছি।
চলতি অর্থবছরে ১৫ লাখ টাকার উপরে সরকারি মূল্যে দরপত্র চাওয়া হয়। এতে মাত্র একজন ৪ লাখ টাকায় দরপত্র দাখিল করে। পরে আমি সেই দরপত্র বাতিল করে খাস হিসেবে টোল আদায়ের পরামর্শ দেই। কিন্তু মেয়র তার ভাগিনা সেলিমকে মৌখিকভাবে টোল আদায়ের জন্য দিয়ে দেন। গেল ৬ মাসে সেই টোলের ১০০ টাকাও পৌরসভার খাতায় জমা হয়নি। অথচ গত বছর ইজারার মাধ্যমে প্রায় ১৮ লাখ টাকা পাওয়ায় টার্মিনালটি ইজারা দেয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে পৌরসভার মেয়র জানে আলম খোকা বলেন, আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। তদন্ত কমিটি গঠন হচ্ছে, তারা তদন্ত করলেই বিষয়গুলো মিথ্যা প্রমাণ হবে। বাস টার্মিনাল মৌখিকভাবে ভাগিনাকে দেয়া প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, আমার কোনো ভাগিনাকে দেয়া হয়নি। মালিক সমিতির অধীনে ছিল টার্মিনালটি। তারা লোকসানের শিকার হয়ে ছেড়ে দিয়েছে। এখন কারও কাছেই নেই। এজন্য পৌরসভার তহবিলে কোনো টাকা জমা হয়নি।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

17 − 15 =