শেরপুর প্রতিদিন ডট কম

Home শেরপুর জেলা নালিতাবাড়ি শেরপুরে শিশুশিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত, শিক্ষক গ্রেফতার
শেরপুরে শিশুশিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত, শিক্ষক গ্রেফতার

শেরপুরে শিশুশিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত, শিক্ষক গ্রেফতার

শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে শিক্ষককে না জানিয়ে মাদরাসা থেকে বাড়ি যাওয়ায় শিশুশিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা হলে ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার (২৮ মে) পৌরশহরের দক্ষিণ বাজার মাদরাসাতুল মদিনা নামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ওই শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক গ্রেফতারের তথ্যটি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারের পর সোমবার (২৯ মে) দুপুরে ওই শিক্ষকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ওই শিক্ষকের নাম মো. মোখলেছুর রহমান। তিনি পৌরশহরের গোবিন্দনগর এলাকার মো. ভুলু মিয়ার ছেলে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে নালিতাবাড়ী থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে রাতেই গ্রেফতার করে পুলিশ।

সোমবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায়, ওই শিক্ষার্থী হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছে। তার পাশে মা বসে আছেন। শরীরের আঘাতে শিশুটি বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না বলে জানান তার মা।

শিক্ষার্থীর পরিবারের বরাতে পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ওই মাদরাসায় মদিনায় তৃতীয় শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। গত বৃহস্পতিবার ওই শিক্ষার্থী শিক্ষকদের না বলে বাড়িতে চলে যায়। রোববার সকাল ৯টার দিকে ওই প্রতিষ্ঠানের তিন শিক্ষার্থীকে পাঠিয়ে তাকে বাড়ি থেকে মাদরাসায় নিয়ে যায় অভিযুক্ত ওই শিক্ষক।

এ সময় মাদরাসা থেকে না বলে চলে যাওয়ার কারণে শিক্ষক মোখলেছুর রহমান ওই শিশুশিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে মারধর করেন। তার শরীর থেকে পাঞ্জাবি খুলে সেই পাঞ্জাবি দিয়ে দুই হাত পেছন দিকে বাঁধেন। এরপর পরনের পায়জামা নামিয়ে তার পশ্চাৎদেশে ও ঊরুতে বেত দিয়ে বেধড়ক মারপিট করেন। প্রায় ৩০ মিনিট মারধরের পর ওই শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে মাকে জানিয়ে কাঁদতে থাকে। পরে তার মা-বাবা বিষয়টি স্থানীয়দের জানান। এলাকাবাসী ওই পরিবারকে আইনগত পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দেন।

রোববার রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মোখলেছুর রহমানকে গ্রেফতার করে। পরে সোমবার দুপুরে পুলিশ মোখলেছুর রহমানকে আদালতে পাঠায়।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘বৃহস্পতিবারে হুজুরকে না কইয়া (বলে) মাদরাসা থেকে চইল্লা (চলে) আসছিলাম। পরে রোববার সকালে তিন ছাত্ররে দিয়া আমায় ডাকাইয়া (ডেকে) নিয়া হুজুর খুব মারছে। আমার পাঞ্জাবি খুইল্লা (খুলে) হাত বাঁইধা, মুখ চাইপা ধইরা, পরনের পায়জামা নামাইয়া (নামিয়ে) পেছনে বেত দিয়া বাইরাইছে (মেরেছে)।’

আহত শিক্ষার্থীর মা বলেন, ‘শরীর খারাপ লাগায় গত বৃহস্পতিবার ছেলে মাদরাসা থেকে না কইয়া (বলে) বাড়ি চলে আসে। এই অপরাধে আমার পুলাডারে (ছেলেকে) বাড়ি থাইকা (থেকে) ধইরা নিয়া শিক্ষক এইভাবে মারধর করছে। এতে পুলাডার (ছেলে) শরীরের পেছনে লাল চাহা চাহা (জখম) দাগ কইরা ফালাইছে (ফেলেছে)। আমি ওই শিক্ষকের উপযুক্ত বিচার চাই।’

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক বলেন, ‘ওই শিশুর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা করা হয়েছে। গতকাল রাতেই অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে গ্রেফতার শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

fifteen − ten =