স্টাফ রিপোর্টার: শেরপুরের নকলায় আদালত কর্তৃক ১৪৪ ধারা জারি করা থাকা শর্তেও মোজাম্মেল হক ফকির নামের এক ব্যক্তির জায়গা দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশির বিরুদ্ধে।
নকলা উপজেলার পাঠাকাটা মধ্যপাড়া এলাকার মৃত. ময়েজ উদ্দিনের ছেলে ভুক্তভোগী মোজাম্মেল হক ফকির অভিযোগ করে বলেন, আমি পাঠাকাটা মৌজার ৬.৫০ শতাংশ জমি ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর এওয়াজ বদল মূলে ক্রয় করিয়া ভোগ দখল করে আসছি। একই এলাকার মৃত. মজিবর রহমানের পুত্র মোবারক হোসেন ও তার স্ত্রী মোছলেহা বেগম আমার এই জমি বেদখলের পায়তারা করে আসতেছিল। ইতোপূর্বে আমি এই জমি নিয়ে শেরপুর বিজ্ঞ সহকারি জজ আদালতে একটি বাটোয়ারা মামলা দায়ের করি (মামলা নং-০১/২০১৩)। সেই মামলায় আদালত আমাকে ওই জমির ডিক্রিও দেয়। ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর সকালে মোবারক হোসেন দলবল নিয়ে আমার ওই জমি বেদখল করে নেয় এবং বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকী দেয়।
পরে গত মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারী/২৩) বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, শেরপুরে বিচার চেয়ে একটি পিটিশন দায়ের করি (পিটিশন মামলা নং-৩০/২০২৩)। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিটিশনটি আমলে নিয়ে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য উক্ত জমিতে ১৪৪ ধারা জারির আদেশ দেন।
মোজাম্মেল হক ফকির আরো বলেন, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের মাধ্যমে সুবিচার পাওয়ার জন্য জেলা পুলিশ সুপার বরাবরেও একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছি।
১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ অস্বীকার করে মোবারক হোসেন বলেন, জায়গাটি আমাদের এবং আমাদের দখলেই আছে। পূর্বে আমিও ডিক্রি পেয়েছি এই জমির উপরে। তারা (মোজাম্মেল হক ফকির) আদালতে মামলা করেছে। আমিও মামলা করব। আদালত যে সিদ্ধান্ত দিবে সেটাই মেনে নিব।
এ ব্যাপারে নকলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ বলেন, আদালতের আদেশে উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বুধবারে পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করেছে। তবে কেউ যদি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধে মোজাম্মেল হক ফকির নামের একজন পুলিশ সুপার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে শুনেছি। অভিযোগটি পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।