ঝিনাইগাতীতে বিধবা ও শারিরীক প্রতিবন্ধি সুফিয়ার ভাগ্যে জুটেনি সরকারি ভাতার কোন কার্ড!

27

শেরপুর প্রতিনিধি : বিধবা ও শারিরীক প্রতিবন্ধি সুফিয়া বেওয়া (৬৫) এর ভাগ্যে জুটেনি সরকারি ভাতার কোন কার্ড! পাইনি কোন সরকারি সুযোগ- সুবিধা। ঘটনাটি ঘটেছে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের আহম্মদনগর পূর্বপাড়া গ্রামে। সুফিয়া বেওয়া ওই গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দনের স্ত্রী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১০ বছর পূর্বে সহায়-সম্ভলহীন দিনমজুর মফিজ উদ্দিন ৩ মেয়ে ও স্ত্রী রেখে মারা যান। স্বামী মফিজ উদ্দিনের মৃত্যেুর পর সংসার চালানোর মতো কোন উপায় না থাকায় ৩মেয়েকে নিয়ে সুফিয়া পাড়ি জমায় ঢাকায়। ঝিয়ের কাজ করে মেয়েদেরকে বড় করেন। পর্যায়ক্রমে সেখানেই ৩মেয়ের বিবাহ হয়। মেয়েদের বিবাহের পর মা সুফিয়া বেগম হয়ে পড়েন
সম্পূর্ণ একা। নাড়ীর টানে পূণরায় ফিরে আসেন স্বামীর বাড়িতে। গত দেড় বছর আগে অজ্ঞাত এক রোগে বা হাতটি পঙ্গু হয়ে যায়। হারিয়ে ফেলে কর্মক্ষমতা। উপায়ন্তর না পেয়ে পেটের দায়ে বেছে নেন ভিক্ষাবৃত্তি। একটি বিধবা/ প্রতিবন্ধি কার্ডের জন্যে জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ালেও সুফিয়ার ভাগ্যে জুটেনি কোন কার্ড। পাইনি সরকারী কোন সুযোগ- সুবিধা। এখন ভিক্ষা বৃত্তি করে যা পান, তা দিয়েই খেয়ে না খেয়ে চলে সুফিয়ার জীবন।

এ ব্যাপারে সুফিয়া বেওয়া এ প্রতিনিধিকে জানান, “আমার বয়স হওয়ার পাশাপাশি বা হাতটি সম্পূর্ণ অবস। কাম-কাজ করতে পারিনা। ভিক্ষা করতে আমারও ভাল লাগেনা। আমি একটি কার্ডের জন্য অনেক ঘুরেছি, আমার কথার কেউ মুল্য দেয়না। সরকার যদি আমাকে একটি ভাতার কার্ড দিতো, তাহলে অনেক ভাল হতো”।

এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী সদর ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদৎ হোসেন ও ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন জানান, “তিনি দীর্ঘদিন ঢাকায় থাকার কারণে বিষয়টি আগে আমরা জানতাম না। আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলে সুফিয়া বেগমের জন্য একটি বিধবা/ প্রতিবন্ধি ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করবো।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

আমাদেরও প্রত্যাশা সমাজের অর্থবান ও বিত্তবানরা এগিয়ে আসুক সুফিয়া বেগমের পাশে সহযোগীতার হাত নিয়ে। তাহলেই হয়তোবা মানবতার রঙ্গে রাঙ্গাবে বিধবা ও শারিরীক প্রতিবন্ধি সুফিয়ার জীবন। দুর হবে তার দুঃখ।