শ্রীবরদীতে গৃহকর্মী সাদিয়ার দাফন সম্পন্ন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী

8094

স্টাফ রিপোর্টার: শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার আওয়ামীলীগ নেতা আহসান হাবিব শাকিলের স্ত্রী রুমানা জামান ঝুমুরের শারীরিক নির্যাতনে শিশু গৃহকর্মী সাদিয়া আক্তার ফেলি (১০)র মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকাহত এলাকাবাসী। ক্ষুব্ধতা সৃষ্টি হয়েছে সমগ্র উপজেলা জুড়ে। শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শিশু গৃহকর্মী সাদিয়ার লাশ শ্রীবরদীর মুন্সিপাড়ায় তার নিজ বাড়িতে পৌছালে সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক পরিবেশের।

স্বজন ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে।

” কি অপরাধ করছিলো আমার মেয়ে, দুইডা ভাতের জন্যে মেয়েডারে শাকিলের বাড়িতে দিছিলাম, আর শাকিলের বউ আমার মেয়েডারে মাইরা ফেলাইলো , আমি ওর ফাঁসি চাই ” – সাদিয়ার মা আনোয়ারার বুকফাটা চিৎকার অশ্রুসিক্ত করে তুলে উপস্থিত সবাইকে।

৯৯৯ এ ফোনকলের পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ৩০ মিনিটে আওয়ামীলীগ নেতা আহসান হাবীব শাকিলের বাসভবন থেকে নির্যাতনের শিকার গুরুতর আহত গৃহকর্মী সাদিয়াকে উদ্ধার করে স্থানীয় থানা পুলিশ। ২৭ সেপ্টেম্বর গুরুতর আহত অবস্থায় সাদিয়াকে ভর্তি করা হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে । ২৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার বিকেলে সে মারা যায়।
সাদিয়ার বাবা ট্রলিচালক সাইফুল কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ” যে মহিলা আমার মেয়েকে নির্যাতন করে মেরে ফেলছে, আমি তার ফাঁসি চাই ” ।
শনিবার রাতে মুন্সিপাড়ার এক কবরস্থানে সাদিয়ার দাফন সম্পন্ন করা হয় ।
এলাকাবাসী শিশু গৃহকর্মী সাদিয়ার হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন।

মানবাধিকার সংস্থা
” আমাদের আইন ” এর শ্রীবরদী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও শ্রীবরদী লোকাল বয়েস এর পরিচালক এ.জেড রুমান বলেন এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আমরা স্তম্ভিত , সমগ্র শ্রীবরদী উপজেলাবাসী ক্ষুব্ধ, শিশু সাদিয়ার জন্য হৃদয় কাঁদছে, তীব্র ধিক্কার জানাই, দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যেন এমন ঘটনা ঘটাতে আর কেও সাহস না পায়।

এ ব্যাপারে শ্রীবরদী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদার জানান, শিশু গৃহকর্মী সাদিয়ার উপর বর্বর নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার একমাত্র আসামী রুমানা জামানকে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আসামী জেলহাজতে রয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্তে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত আরও কারো নাম উঠে আসলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।