নকলায় আড়াইশ পরিবারের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ

24

শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের নকলা উপজেলায় প্রায় আড়াইশ পরিবারের চলাচলের একটি রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের বালিয়াদী মধ্যপাড়া গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে এলাকার মানুষের চলাচলের প্রায় বিশ বছর যাবৎ ব্যবহারের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থীসহ কয়েকশ মানুষ। গত বুধবার (৬অক্টোবর) এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুর রহমানের নিকট লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুর রহমান অভিযোগটির বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সহকারি কমিশনার (ভূমি) কাউছার আহম্মেদকে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানাগেছে।

অভিযোগকারীরা জানান, চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের বালিয়াদী গ্রামের মো. মোস্তফার ছেলে ইমরান, আরিফ ও এরশাদ তাদের বাড়ির পাশ দিয়ে চলাচলকারী মানুষজনকে নানা কারণেই বকাঝকা করেন। কিছুদিন আগে ওই এলাকার মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটিতে গাছ-পালা লাগিয়ে সংকুচিত করে দেয়। এতে ওই রাস্তা দিয়ে রিকশা ও ভ্যানসহ কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারে না। শুধু তাই নয় মানুষ মারাগেলেও লাশ নিয়ে বের হওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়ে। সস্প্রতি ওই রাস্তাটি দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করা মানুষের নানা রকম হুমকি ধমকি দিচ্ছেন তারা।

ভুক্তভোগী ভ্যান চালক মোজাম্মেল ও কাদির বলেন, ‘এই রাস্তাটি দিয়ে আমরা অনেকদিন যাবৎ চলাচল করি। আমাদের সংসারের একমাত্র আয় হয় ব্যাটারী চালিত ভ্যানের মাধ্যমে। নিজের বাড়িতে ভ্যান আনতে পারি না রাস্তাটার জন্য। অন্যের বাড়িতে রেখে চার্জ দিতে হয় এবং রাতে ঘুম হয় না কখন যানি আমার ভ্যানটি চুরি হয়ে যায়।

রহিমা বেগম জানান, আমার স্বামী কিছুদিন আগে মারাগেছে। জানাযা পড়তে হয় পাঁকা রাস্তার সাথে ছোট একটা ঈদগাহ মাঠে। কিন্তু চারজনে লাশ নিয়ে যেতে পারেনি। দুইজনে লাশ বহন করে নিতে হয়েছে। আমার স্বামীর মত অন্য কারো লাশ যেন জানাযা পড়ার জন্য এত কস্ট করে নিতে না হয়।

আক্কাস আলী ও বাহার মিয়া বলেন, মোস্তফাসহ তার সন্তানরা তাদের বাড়ির সামনের রাস্তাটুকু একটু বড় করে দিবে বলে আমাদের বলে। তখন আমরা গ্রামবাসীরা সকলে মিলে উদ্যেগ নেই রাস্তাটি আরো দীর্ঘ করার। তাদের সাথে নিয়ে রাস্তাটি দীর্ঘ করতে গিয়ে আমাদেরসহ অনেকের গাছ-পালা কাটা পড়ে। তখন মোস্তফাসহ তার সন্তানরা বলে পিছন থেকে গাছ কেটে আসেন পরে আমরা সামনের গাছগুলো কেটে রাস্তাটুকু একটু বড় করে দিব। যাতে ভ্যানসহ সাধারণ যানবাহন চলতে পারে। পরে আমরা রাস্তা করতে যার যে গাছ-পালা কাটা পড়েছে সে সেই গাছগুলোই কেটেছে। গাছগুলো কাটার পরে তারা এখন আর রাস্তা দেয় না। এতে আমাদেরসহ গ্রামবাসীর কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

মোস্তফার ভাই আ: রাজ্জাক বলেন, তারা আমার ভাই ও ভাতিজা। আমার সাথে রক্তের সম্পর্ক। আমরাও চলাচল করি সেখান দিয়ে। আমাদের কথা চিন্তা করেও তারা রাস্তাটি দিতে পারতো। এই রাস্তার জন্য মেয়েদের বিয়ের জন্য ভাল কোন পরিবার আসে না। কারন একটাই রাস্তা নেই।

সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ বুলু বলেন, আমরা তাদের বলেছিলাম রাস্তাটির জন্য আপনাদের যতটুকু জায়গা ক্ষতি হয় আমরা ততটুকু জায়গা দিব বা তার মূল্য দিব। তবুও আপনারা রাস্তাটুকু দেন। কিন্তু তাদের কথা একটাই তারা রাস্তার জন্য কোন জায়গা দিবে না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জালাল মিয়া বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর ধরে স্থানীয়ভাবে এটার সালিশ দরবার করেও আমরা এর কোনো ফয়সালা করতে পারিনি।’ মোস্তফাসহ তার সন্তানদের গ্রামবাসীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলো তারা কোন কথা বলেনি।

এ বিষয়ে সহকারি কমিশনার (ভূমি) কাউছার আহম্মেদ বলেন, ‘রাস্তাটির বিষয়ে কয়েদিন আগে স্থানীয়রা ইউএনও স্যার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। স্যার অভিযোগটির বিষয়ে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আমাকে নির্দেশ দেন। আমি সেই ইউনিয়নের উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তাকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন প্রেরনের নির্দেশ দিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।