শেরপুরে চাঞ্চল্যকর বৃদ্ধা ফরিদা বেগম হত্যা মামলার আরো দুই আসামীসহ গ্রেফতার ৪

394

জিএইচ হান্নান: শেরপুর জেলা শহরের পৌরসভার গৌরীপুর মহল্লার বৃদ্ধা ফরিদা বেগম (৬৫) বশতঘরের শয়নকক্ষে নির্মমভাবে খুনের দীর্ঘ এক বছর পর ওই খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে জামালপুর ক্যাম্পের পিবিআই দল। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার পিবিআই’র দল প্রথমে সদর উপজেলার ধলা ইউনিয়নের পাঞ্জরভাঙ্গা গ্রামের মোফাজ্জল মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর ওরফে ঠোঁটকাটা জাহাঙ্গীর (২৬) ও শহরের গৌরীপুর মহল্লার যোগেন বিশ্বাসের ছেলে লিটন বিশ্বাস (২৫) নামে দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে পিবিআইকে তাদের দেয়া স্বীকারোক্তিতে ৩০ আগস্ট শনিবার ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে আরো দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা দুই আসামীরা হলো- গৌরীপুর মহল্লার রফিক এর ছেলে শামীম (২৫) ও আব্দুস ছালাম এর ছেলে আলা উদ্দিন (২৫)। এনিয়ে গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪

মামলার তদন্তকারী অফিসার পিবিআই জামালপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. হারুন অর-রশিদ জানান, চার মাদকাসক্ত মিলে নেশার টাকা জোগাড় করতে ওই বৃদ্ধা ফরিদা বেগমের শয়নকক্ষে ঢুকলে তাদের চিনে ফেলায় পরে তাকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। এমন স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়ে আদালতে বৃদ্ধা ফরিদা বেগম হত্যার সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে জাহাঙ্গীর আলম ওরফে ঠোঁটকাটা জাহাঙ্গীর ও লিটন বিশ্বাস। ২৯ আগস্ট শনিবার বিকেলে জ্যেষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম বেগম মুহসিনা হোসেন তুষি তাদের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। পরে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ধৃত আসামী জাহাঙ্গীর ওরফে ঠোঁটকাটা জাহাঙ্গীর ও লিটন বিশ্বাস এর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার ভোর রাতে শেরপুর জেলা শহরের গৌরীপুর মহল্লা থেকে শামীম ও আলা উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে পিবিআই শনিবার দুপুরে ধৃত আসামীদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট মধ্যরাতে শেরপুর জেলা শহরের পশ্চিম গৌরীপুর মহল্লায় নিজ শয়নকক্ষ থেকে বৃদ্ধা ফরিদা বেগমের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে সদর থানার পুলিশ। এ ঘটনায় পরদিন নিহতের ছেলে খন্দকার সুমন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি পিবিআই জামালপুর আঞ্চলিক কার্যালয়কে তদন্তভার দেওয়া হয়।