শেরপুরে স্ত্রীর দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় পুলিশ কনস্টেবল কারাগারে

701

জিএইচ হান্নান: শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার পশ্চিম নকলা গ্রামের বাসিন্দা মৃত. আক্কাছ আলীর ছেলে পুলিশ কনস্টেবল নং ২৩৪৫১ আল আমিন (২৭) এর বিরুদ্ধে তার স্ত্রী দুই সন্তানের জননী মোছাঃ মিনারা বেগম (২৫) কর্তৃক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল আল আমিন ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হয়ে তার আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন নাকচ করে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, নকলা উপজেলার পশ্চিম নকলা গ্রামের মৃত আক্কাছ আলীর ছেলে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে কর্মরত কনস্টেবল আল আমিন একই উপজেলার বাড়ইকান্দি গ্রামের মোঃ মিজানুর রহমানের মেয়ে মোছাঃ মিনারা বেগমকে বিগত ২০১৩ সালের ২২ আগস্ট রেজিঃ কাবিন মূলে বিয়ে করেন। বিয়ের পর আল আমিন ও মিনারা বেগমের দাম্পত্য জীবনে তাদের সংসারে ১ ছেলে এবং ১ কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। এ অবস্থায় বেশ কয়েক বছর সংসার জীবন অতিবাহিত হওয়ার পর বিগত ২০১৯ সালের ২৪ জুন আল আমিন ছুটিতে বাড়ীতে এসে স্ত্রী মিনারা বেগমকে তার বাবার বাড়ী থেকে ২ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেয়ার জন্য চাপ দেয়। এতে স্ত্রী মিনারা বেগম পিত্রালয় থেকে যৌতুকের টাকা আনতে অস্বীকৃতি জানালে পাষন্ড স্বামী আল আমিন মিনারা বেগমকে বেধরক মারধোর ও জখম করে। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

এদিকে ওই পুলিশ কনস্টেবল আল আমিন বাড়ীতে স্ত্রী মিনারা বেগমকে রেখে ঢাকায় কর্মস্থলে থেকে অন্য যুবতীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং ওই যুবতীর সাথে দীর্ঘদিন অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এছাড়াও তাকে গোপনে বিয়ে করে বাড়িতে এনে তার স্ত্রী মিনারা বেগমকে জানায় ওই মেয়ে তার খালাতো বোন হয়।

এসব ঘটনায় অবশেষে নির্যাতিতা স্ত্রী মিনারা বেগম বিগত ২৭/০৬/২০১৯ সালে বাদী হয়ে পাষন্ড স্বামী আল আমিনকে প্রধান আসামী এবং শাশুড়ী মোছাঃ আনোয়ারা বেগমকে ২নং আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (২০০৩ সংশোধনী) আইনের ১১ (খ) ৩০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার তদন্তকারী অফিসার নকলা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজিব ভৌমিক তদন্ত শেষে একমাত্র আসামী পুলিশ কনস্টেবল আল আমিনের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১ এপ্রিল আদালতে অভিযোগ পত্রদাখিল করেন।

এদিকে ১৬ আগস্ট মামলার ধার্য তারিখ থাকলেও ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে আসামী আল আমিন তার আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন প্রার্থনা করেন। পরে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে এমনটাই জানিয়েছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আলমগীর কিবরিয়া কামরুল।