শেরপুরে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে অনিয়ম দুর্নীতিতে স্বাস্থ্য সেবা ভেঙ্গে পড়েছে

98

জিএইচ হান্নান: শেরপুর জেলা শহরের শেরপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার (ক্লিনিক) ডাঃ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের উদাসীনতায় ৫ বছরের মধ্যে হয়নি কোন সিজার বা ডেলিভারী এবং স্বেচ্ছাচারিতায় স্বাস্থ্য সেবা ভেঙ্গে পড়েছে। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সময় তদন্ত হলেও ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ নেয়নি কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।

অফিসের একাধিক সূত্র জানিয়েছে বিগত ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অপারেশন সংক্রান্ত চিকিৎসার জন্য ঔষধপত্র, আসবাবপত্র ও প্রতিষ্ঠানের সংস্কার দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দের অন্তত ১ কোটি (উন্নয়ন ও রাজস্ব) টাকা লোপাট করা হয়েছে। বিল ভাউচার থাকলেও ক্রয়কৃত মালমাল নেই। অর্থ নয়ছয়ে বাঁধার কারণে গত তিন বছর (ঔষধপত্র ও আসবাবপত্র বাবদ) সরকারের দেওয়া ১৬ লাখ টাকা ফেরৎ গেছে সরকারি কোষাগারে। সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাড়ে চার লাখ টাকা ঔষধ ক্রয় করার জন্য বরাদ্দ আসে। ক্রয় কমিটির সভা করে কোটেশণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঔষধ ক্রয় করার নিয়ম এবং ওই ঔষধ বুঝে নিবেন শেরপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। কিন্তু এসব কিছুই করা হয়নি। অর্থ বছরের শেষ দিন ২৮ জুন ঔষধ ক্রয় না করেই ভূয়া বিল ভাউচারে স্বাক্ষর করতে বলা হয় কমিটির সদস্য সদ্য যোগদান করা শেরপুর সদর উপজেলা কর্মকর্তা ডাঃ শারমিন রহমান অমিকে। ডাঃ শারমিন রহমান অমি ঔষধ না পেয়ে উর্ধ্বতনের চাপেও স্বাক্ষর করেননি।

মা ও শিশু কর্মচারীরা জানিয়েছে এভাবেই প্রতি বছর টাকা শুধু টাকাই তোলা হয়। সরকার শিশুদের মায়ের দুধ খাওয়ার (বেষ্ট ফিডিং) কর্ণার নির্মাণের জন্য ৮৫ হাজার টাকা দিয়েছে এবং তা খরচ দেখানো হয়েছে কিন্তু ওই কর্ণার নির্মাণ করা হয়নি। চিকিৎসা নিতে আসা সেবা প্রার্থীদের বসার একটি টুলও নেই। শুধু সরকারের পাঠানো কয়েকটা ঔষধ আছে। ব্যবস্থা পত্রে লেখা হয় ৭/৮টি করে টেস্ট এবং পাঠানো হয় ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমানের নির্দিষ্ট ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে। এছাড়াও প্রসব সম্ভবাদের পাঠানো হয় নির্দিষ্ট ক্লিনিকে এবং কমিশনের ভিত্তিতেই চলে এসব। দীর্ঘদিন ব্যবহার হয় না বলে অকেজোর পথে অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার। এই সেবা কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এ বছরের ২৩ মার্চ এখান থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ পাওয়া যায় এবং এ ঘটনায় বিভিন্ন মিডিয়াতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

সূত্র আরো জানিয়েছে সরকারি টাকার ক্রয়কৃত ঔষধের গুজামিল হিসাব বার বার দেখানো হতো এই সব মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ দিয়েই। ব্যবস্থা নিবেন যারা তারাই এসবের সাথে জড়িত।

জানা গেছে কর্মচারীরা দোষ করলে ঘুষ নিয়ে ঘটনার ধামাচাপা দিয়ে দেন এই কর্মকর্তা। অফিস করেন না নিয়মিত। সরকারি গাড়ী ব্যবহার করে অফিস সময়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে গিয়ে অপারেশন করে বেড়ান।

ডাঃ অমি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন ভূয়া বিল ভাউচারে স্বাক্ষর করিনি। তবে হয়রানি করার জন্য নানা ভাবে ষড়যন্ত্র চলছে বলে এমনটাই জানান তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার করে ডাঃ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন নিয়ম মেনেই খরচ করা হয়। কর্মকর্তাদের সাথে রশি টানাটানিতে টাকা ফেরৎ গেছে। বাকী অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে ও কিছু বিষয়ে তদন্ত হয়েছে, তবে করোনার কারণে ঝিমিয়ে পড়েছে।

এব্যাপারে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোদাচ্ছের হোসেন জানান, এসব ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কেন যে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা, এটা আমার জানা নেই।