বিধবা ভাতার কার্ড চাওয়ার অপরাধে এক নারীকে মারধর

100

আবুল কালাম আজাদ (জামালপুর প্রতিনিধি): বিধবা ভাতার কার্ডের জন্য জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দম্পত্তির বিরুদ্ধে এক বৃদ্ধ নারীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১১ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম আলমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার হনুফা বেওয়া নামের ওই নারীর বাড়ি শরিফপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি গ্রামে। তার স্বামীর নাম আক্কাস আলী শেখ। দুই বছর আগে তার স্বামী মারা গেছেন। নিজে কোন রকম অন্যের বাড়িতে কাজ কাম করে চলেন। এ ঘটনায় ওই নারী মঙ্গলবার বিকেল ৫ টার দিকে জামালপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

থানায় দেয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হনুফা বেওয়া সাত মাস আগে বিধবা ভাতা কার্ডের জন্য শরিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম আলমের কাছে ৫ হাজার টাকা দেন। কিন্তু চেয়ারম্যান টাকা নিয়েও কার্ড করে দেননি। কার্ডের জন্য চেয়ারম্যান বাড়িতে যাওয়ার অপরাধে মো. রফিকুল ইসলাম আলম ও তাঁর স্ত্রী ওই নারীকে মারধর করেন। ওই নারী স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

নির্যাতনের স্বীকার হনুফা বেওয়া জানান, চেয়ারম্যান কার্ডের জন্য ৫ হাজার টাকা চান। সুদে ৫ হাজার টাকা নিয়ে চেয়ারম্যানের বাড়িতে গিয়ে দিয়ে আসি। এরপর ৭ মাসেও আর বিধবা ভাতার কার্ড করে দেয়নি। কার্ড চাইতে গেলেই চেয়ারম্যান ও তাঁর স্ত্রী আমাকে মারধর করেন। গরিব মানুষ। কার্ড না দিলে, আমার টাকা ফেরত দেক। ৫ হাজার টাকা আমাদের কাছে অনেক। এর বিচার চাই। বিচার চাইতে থানায় এসেছি।

শরিফপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি গ্রামের বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম জানান, আমাদের এলাকার বিধবা মহিলাকে আলম চেয়ারম্যান ও তার বউ মারধর করেছে। এটা খুব নেক্কারজনক কাজ। আমি এলাকাবাসী হিসেবে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবী করছি।

নির্যাতনের স্বীকার হনুফা বেওয়ার একমাত্র ছেলে আলিফ সেখ জানান, দুই বছর আগে আমার বাবা মারা গেছে। আমার মা এ বাড়ি সেই বাড়িতে কাজ করে কোন রকমে সংসার চালান। বিধবা ভাতার কার্ডের জন্য এক বছর আগে সুদে ৫হাজার টাকা নিয়ে চেয়ারম্যানরে দিছে। এখন পর্যন্ত সে আমার মা’র কার্ডটি দেয়নি। আজ মা কার্ডের জন্য তার বাড়িতে গেলে চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রী তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বেড় করে দেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম আলম জানান, আমি বা আমার স্ত্রী এমন কোন ঘটনা ঘটায়নি। ওই বিধবা মহিলা আমার বাড়িতে গিয়ে তার কার্ডের কথা বললে, আমি তাকে বলি যে, বিধবা ভাতার কার্ডের তালিকাটা পরিষদে আছে। তালিকা দেখে বলতে পারবো আপনার নাম আছে কি না। তখন আমার স্ত্রী তাকে বুঝি বাড়ি পাঠিয়ে দেন।

এব্যাপারে জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সালেমুজ্জামান জানান, বৃদ্ধা নারীকে মারধরের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।