নকলায় ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহ বন্ধ, কনের বাবাকে জরিমানা

138

মো. মোশারফ হোসাইন: শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমানের হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেলো ১৬ বছর বয়সী ১০ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। ৫ আগস্ট বুধবার দুপুরে এক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ২নং নকলা ইউনিয়নের ছত্রকোনা এলাকায় এ বিবাহ বন্ধ করা হয়।

এছাড়া করোনা কালীন সময়ে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধির প্রতি খেয়াল না রেখে বিয়ের আয়োজন করায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদুর রহমান কনের বাবাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। সেই সাথে মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবেন না মর্মে কনের বাবা-মায়ের কাছ থেকে মুচলেকা নেয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, কনে উপজেলার ছত্রকোনা এলাকার আক্তার হোসেনের মেয়ে ও নকলা শহরের অঙ্কুর বিদ্যাপীঠ নামে একটি বেসরকারি স্কুলের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একই এলাকার মৃত সেকান্দর আলীর ছেলে হাসেন আলীর সাথে তার বিয়ের আয়োজন করা হয়।

এলাকার কোন ছেলে-মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগে যেন বিবাহ না হয়, সে দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য ও উপস্থিতিদের মৌখিক অঙ্গীকার করান উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদুর রহমান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদুর রহমান বলেন, নকলাকে শেরপুর জেলার প্রথম বাল্যবিবাহ মুক্ত উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপজেলায় বাল্যবিবাহতো অনেক দূরের কথা, বাল্যবিবাহ সম্পর্কিত কোন আয়োজনকেও বরদাস্ত করা হবেনা। নকলায় বাল্যবিবাহ সম্পর্কিত কোন ধরনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট পরিবারের অভিভাবক ও বরসহ আয়োজকদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে বলে কঠোর হুশিয়ারী দেন এবং এবিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগসহ বাল্যবিবাহ নিরোধে সংশ্লিষ্টরা সদা তৎপর রয়েছেন বলে জানান তিনি।