শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গাজীপুর মেট্রোপলটন পুলিশের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে এসে এমন ঘোষণা দেন গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান।
নাজমুল করিম খান বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আপনারা যে সুন্দর বাংলাদেশ দিয়েছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদকে এ দেশ থেকে বিতাড়িত করেছেন, সেই ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মারা এখনো রয়ে গেছে। আমি আশ্বস্ত করতে চাই, আপনাদের শরীরে যে ফ্যাসিবাদী বিরোধী রক্ত, আমার শরীরেও একই রক্ত। এখন এই বাংলাদেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমার, আপনার সকলের। গতকালের যে ঘটনাটি ঘটেছে তার জন্য পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে আমি ক্ষমা প্রার্থী। আমি আপনাদের আশ্বাস দিতে চাই, প্রতিটি আঘাতের আমি প্রতিঘাত দিতে চাই। আমরা তাদেরকে এক এক করে খুঁজে বের করব ইনশাল্লাহ।’
গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, ‘পুলিশের গাফলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২ ঘণ্টা পর ওসি আপনাদের রেসপন্স করেছে, এজন্য তাকে সাসপেন্ড করব। যারা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আতাত করবে তাদের পুলিশ বাহিনীতে কাজ করতে দেওয়া হবে না। পুলিশকে জনগণের পুলিশ হতে হবে। ইতোমধ্যে ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, রাতে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ৬০-৭০ জন দাক্ষিণখান এলাকায় সাবেক মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হকের গ্রামের বাড়িতে হামলা করে। এসময় এমপির বাড়িতে ডাকাতি হচ্ছে মসজিদের মাইকে এমন ঘোষণা দেওয়ার পর স্থানীয় এলাকাবাসী জড়ো হয়। একপর্যায়ে তাদের প্রতিহত করে পাল্টা ধাওয়া করে স্থানীয়রা। এসময় ছাত্র-জনতার কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয়দের গণপিটুনিতে অন্তত ১৮-২০ জন আহত হয়। রাতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাফিলতির অভিযোগ এনে বিক্ষোভ করে ছাত্র-জনতা।