যৌথবাহিনীর অপারেশন ডেভিল হান্ট চলার মধ্যেই গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে রাজবাড়ী সড়কে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেস ব্রিফিংয়ে গুলির ঘটনা ঘটেছে। গুলিতে এক সমন্বয়ক আহত হয়েছেন। শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে এসে দুইজন দুর্বৃত্ত গুলি করলে মোবাশ্বের গুলিবিদ্ধ হন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা যায়, সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে গোলাগুলির খবর জানতে পেরে ঘটনাস্থল থেকে আহতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গাজীপুরে শুক্রবারের হামলার ঘটনায় প্রেস ব্রিফিং করার সময় একটি বাইক থেকে ছোড়া গুলিতে মোবাশ্বের আহত হন। গুলিটি সমন্বয়ক মোবাশ্বেরের হাতে লাগে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গাজীপুর জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সামিউল আলম নাবিল বলেন, সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা প্রেস ব্রিফিং করছিল। এ সময় মোটরসাইকেলযোগে দুই যুবক এসে একাধিক গুলি ছুড়ে দ্রুত সটকে পড়ে। এ সময় মোবাশ্বের গুলিবিদ্ধ হন। তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান বলেন, মোবাশ্বের নামে এক শিক্ষার্থীকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মো. মনজুর মোর্শেদ বলেন, রোগীর ডান বাহুতে গুলি লেগেছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সার্জারি বিভাগে ভর্তি রাখা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে গাজীপুরে সাবেক মন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়িতে ছাত্রদের ওপর মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গাজীপুরের নেতাকর্মীরা বলেছেন, হামলায় আহতদের সবাইকেই প্রথমে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাত একটার দিকে গুরুতর আহত সাতজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ওই হামলার প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে জাতীয় নাগরিক কমিটি গাজীপুর জেলা ও মহানগর শাখার আয়োজনে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে নগরের ভাওয়াল রাজবাড়ি সড়ক অবরোধ করেন নেতাকর্মীরা। এ সময় আন্দোলনকারীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।