গাজীপুরে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে মালেকের বাড়ি এলাকায় টি অ্যান্ড জেড অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে। অবরোধের কারণে প্রায় ২৪ ঘণ্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট। পুলিশ বলছে, সঙ্কট নিরসনে তারা কারখানা মালিকের সঙ্গে আলোচনা করছেন।
রোববার (১০ নভেম্বর) সকাল ৯টার পরও সড়ক অবরোধ থাকার কারণে শত শত কর্মজীবী মানুষ বিড়ম্বনায় পড়েন। অবরোধের ফলে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলের দিকে এবং ঢাকার দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মালেকের বাড়ি এলাকায় টি অ্যান্ড জেড অ্যাপারেলস লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা না দিয়ে কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধ রেখেছে। ওই গ্রুপের ছয়টি কারখানার চার মাসের বেতন বকেয়া আছে। এ নিয়ে শ্রমিকেরা দীর্ঘ দিন ধরেই বেতন পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ তা পরিশোধ করেনি।
এ অবস্থায় গতকাল শনিবার সকালে শ্রমিকেরা কারখানার সামনে সমবেত হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা মালেকের বাড়ি কলম্বিয়া মোড় এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু মালিক পক্ষ থেকে সমাধান না আসায় বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন শ্রমিকেরা। এতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা বন্ধ রয়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল। এ কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। অবরোধের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে রাজেন্দ্রপুর থেকে টঙ্গী ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস থেকে কড্ডা পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
আন্দোলনেরত শ্রমিকেরা বলেন, ‘গত এপ্রিল মাস থেকে কারখানা বন্ধ ছিল। সেপ্টেম্বরে কারখানা খুললেও দুই মাসের বেতন না দিয়ে কর্তৃপক্ষ টালবাহানা করছে। আমাদের চার মাসের বেতন বকেয়া পড়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বারবার বেতন পরিশোধের তারিখ দিলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বেতন দিচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে সড়ক অবরোধ করতে হয়েছে।’
গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরশাদ মিয়া বলেন, ‘গতকাল মালিক পক্ষ বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সঙ্গে আলোচনায় বসেন। রোববার সকাল ১১টায় শ্রম উপদেষ্টার সঙ্গে বিজিএমইএ, গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও মালিক পক্ষের বৈঠকের কথা রয়েছে। আশা করছি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।’
গাজীপুর শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মোশাররফ হোসেন বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বেতন সংক্রান্ত সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।