শেরপুর প্রতিদিন ডট কম

Home ময়মনসিংহ বিভাগ শেরপুর জেলা শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় চিরবিদায় নিলেন শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতির পিতা শিক্ষাবিদ মধু স্যার
শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় চিরবিদায় নিলেন শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতির পিতা শিক্ষাবিদ মধু স্যার

শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় চিরবিদায় নিলেন শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতির পিতা শিক্ষাবিদ মধু স্যার

শেরপুরে হাজারও মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চিরবিদায় নিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক মোহাম্মদ আলী মাস্টার ওরফে মধু স্যার (৭৯)। তিনি ১৭ মে শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে শহরের দমদমা কালীগঞ্জ এলাকাস্থ নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি………রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ পুত্র ও ৩ কন্যাসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আধার ও প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম রুবেলের পিতা এবং সাংবাদিক মইনুল হোসেন প্লাবনের দাদা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন লিভার ক্যান্সারে ভুগছিলেন।
জানা যায়, মোহাম্মদ আলী মাস্টার শেরপুরের সর্বমহলে মধু স্যার নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। তিনি প্রথম জীবনে কয়েক বছর শ্রীবরদীর কুড়িকাহনীয়া সাউথ কুরুয়া উচ্চ বিদ্যালয়, পরে দীর্ঘ সময় শেরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে (বাগরাকসা উচ্চ বিদ্যালয়) ও যোগিনীমুরা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে চাকুরির পর অবসর গ্রহণ করেন। এরপর শহরের ইউনাইটেড স্কুলে গেস্ট টিচার এবং পরে জেলা কারাগার মোড়ে তার নিজ নামে প্রতিষ্ঠিত এমএ পাবলিক স্কুলে দীর্ঘ ৬ বছর প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জীবনের অর্ধশত বছরেরও বেশি সময় শিক্ষকতা করে তিনি একজন স্বনামধন্য ও আদর্শ ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। পাশাপাশি তিনি প্রথম জীবনে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার সুবাদে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সুনামের সাথে রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পৌর পরিষদের মেয়াদ পূর্তির পর অন্তর্বর্তীকালীন কয়েক দফায় সাবেক উত্তর ইউনিয়নের ভিজিডি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি নিজ এলাকাসহ সাবেক উত্তর ইউনিয়নে বহু শিক্ষা, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তনের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।


এদিকে একইদিন রাত ৯টায় দমদমা কালীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। ওইসময় তার স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আতিউর রহমান আতিক, (মুঠোফোনে), শেরপুর-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ছানুয়ার হোসেন ছানু, শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য এডিএম শহিদুল ইসলাম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান (মুঠোফোনে), সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান, সাবেক সহ-সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন মিনাল, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম স্বপন, জেলা জাসদের সভাপতি মনিরুল ইসলাম লিটন, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হাসান উৎপল, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট এমকে মুরাদুজ্জামান, সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আদিল মাহমুদ উজ্জল, যোগিনীমুরা উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফরিদ আহমেদ, শেরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম মিল্টন, সমাজসেবক আলহাজ্ব জাকারিয়া মো. আব্দুল বাতেন, মো. আব্দুর রশীদ, আলহাজ্ব মোশারফুল ইসলাম মাস্টার, আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা আকন্দ, মো. ফরিদ উদ্দিন সরকার, আলহাজ্ব মো. আব্দুল্লাহ, পৌর কাউন্সিলর বাবুল মিয়া, সাবেক কাউন্সিলর আমির হোসাইন বাদশা, মো. মাছুদুল আলম সরকার, আলহাজ্ব মো. হাসানুজ্জামান প্রমুখ। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া চেয়ে বক্তব্য রাখেন মরহুমের বড় ছেলে এ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার। জানাযা নামাজে ইমামতি করেন দমদমা জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. লুৎফর রহমান।


বক্তারা মরহুমের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, মধু স্যার ছিলেন মানুষ গড়ার কারিগর। একাধারে তিনি ছিলেন আদর্শ শিক্ষক ও সামাজিক সংগঠক। সততা, নিষ্ঠা ও পরিচ্ছন্নতা ছিল তার জীবনের অনন্য বৈশিষ্ট্য। তার মৃত্যুতে এলাকাবাসী একজন অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় মানুষকে হারালো।
জানাযা শেষে স্থানীয় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে অন্যান্যের মধ্যে শোক প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল পিপি, শেরপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. নজরুল ইসলাম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার নুরুল ইসলাম হিরো, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার এ্যাডভোকেট মোখলেছুর রহমান আকন্দ, জেলা জজ আদালতের জিপি এ্যাডভোকেট আবুল কাশেম, স্পেশাল পিপি এ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান রওশন, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রকাশ দত্ত, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আওলাদুল ইসলাম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মানিক দত্ত, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আবুল মানসুর স্বপন, কবিসংঘ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আবদুল আলীম তালুকদার প্রমুখ।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

twenty + 12 =