শেরপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত জেলা কুড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষানবীশ আইনজীবী লুৎফর রহমান ওরফে সোহাগ তালুকদার (৪২) এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। তিনি বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থপ্যাডিক বিভাগের নিচ তলায় ৯ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকলেও তার অবস্থা এখনও শংকামুক্ত নয়। দুুপরে ওই হাসপাতালে তার মাথার সিটিস্ক্যান হলেও মাংসসহ কেটে যাওয়া দুহাতের অপারেশন করা সম্ভব হয়নি। জীবানুমুক্তকরনসহ তার অবস্থা তৈরি হলে শনিবার নাগাদ দুটি অপারেশন হতে পারে-এমনটি বলছেন চিকিৎসকরা,-এ তথ্য জানিয়েছেন পাশে থাকা সোহাগ তালুকদারের স্ত্রী রিপা আক্তার ও আত্মীয় রমজান আলী। তিনি এখনও কথা বলতে পারছেন না। যন্ত্রনায় সম্বিদ হারাচ্ছেন।
জানা যায়, বুধবার রাত ৯ টায় শহরের দীঘারপাড় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ ফখরুল আলম ফখরুলের নেতৃত্বে একদল যুবক মোটরসাইকেল আরোহী সোহাগ তালুকদারকে রাস্তায় আটকায় এবং তার মাথায়, হাতে, পায়ে ও পিঠে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে তাকে ফেলে যায়। ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সোহাগ তালুকদার স্থানীয় আব্দুল আওয়াল মাস্টারের একমাত্র পুত্র এবং ৩ সন্তানের জনক।
এদিকে ওই ঘটনায় রাতেই আহত সোহাগ তালুকদারের চাচা স্থানীয় সাবেক পৌর কাউন্সিলর আমির হোসাইন বাদশা তালুকদার বাদি হয়ে ফখরুল আলম ও জাহাঙ্গীর আলমসহ প্রতিপক্ষের ১৭ জনকে নামে ও আরও অগ্ঞাত নামা ৪/৫ জনকে আসামী করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি।
এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, ওই ঘটনায় থানায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিবদমান দুপক্ষের দ্বন্দ্বের জের ধরে ওই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।