মানব কল্যাণ সংগঠন ‘ইনসাফ’ এর উদ্দ্যোগে শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌরশহরে ৬০০টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করা হয়েছে। ৫ এপ্রিল শুক্রবার পৌরসভা কার্যালয় প্রাঙ্গনে ওই মাংস বিক্রি করা হয়।
ইনসাফ সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে উপজেলায় মানব কল্যাণে গরিব দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ঘর নির্মাণ করে দেওয়া, ঘর সংস্কার করা, বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া, অসহায় অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা সেবা দেওয়া, সুপেয় পানির জন্য নলকূপ স্থাপন করে দেওয়া, আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করতে দোকান করে দেওয়াসহ নানা সামাজিক করে যাচ্ছে সংগঠনটি। এছাড়া এলাকার এতিম শিশুদের লেখাপড়ার বই, খাতা ও কাপড় দেওয়ার কাজ করে তাঁরা।
সংগঠনটির এই সব কাজের প্রধান উদোক্তা হচ্ছেন হাবিবুল্লাহ পাহাড়ি। তিনি গাজিপুর জামিয়াতুছ সুফফাআল ইসলামীয়া মাদরাসার দাওরা (মাস্টার্স) অধ্যয়নরত।
হাবিবুল্লাহ অসহায় মানুষের জন্য অনেকটা চুপিচুপি কাজ করতেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে বিষয়টি দেখে অনেক সুহৃদয়বান মানুষ অর্থ দিয়ে হাবিবুল্লাহ পাহাড়িকে সহযোগিতা করতে শুরু করেন।
আসন্ন ঈদুল ফিতরে গরিব অসহায় মানুষ যেন কমমূল্যে গরুর মাংস কিনতে পারেন সেজন্য সামান্য কিছু অগ্রীম টাকা দিয়ে এক কৃষকের কাছ থেকে একলাখ ১৫ হাজার টাকায় একটি ষাঁড় গরু ক্রয় করে সংগঠনটি।
পরে শুক্রবার দুপুরে এই মাংস বিক্রির উদ্বোধন পৌরমেয়র আবু বক্কর সিদ্দিক। এতে ৬০০ টাকা কেজি দরে একজন ক্রেতা মাত্র এক কেজি মাংস কিনতে পেরেছেন। তবে যাদের মাংস ক্রয় করার সামর্থ্য নেই তাদেরকে বিনামূল্যে আধাকেজি করে গরুর মাংস দেওয়া হয়েছে। এছড়াও যে কেউ ২০০ বা ৩০০ টাকাতেও মাংস ক্রয় করেছেন।
কমমূল্যে গরুর মাংস কিনতে এসে নাম প্রকশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, গত কোরবানী ঈদের পর মাত্র একবার গরুর মাংস খাইছিলাম। বাজারে মাংসের যে দাম আমগর তো কেনার সামর্থ্য নাই। আজ ২৫০ ট্যাহার মাংস কিনলাম। পুলাপানগুলা মেলাদিন পর গরুর মাংস খাইবো।
এ ব্যাপারে হাবিবুল্লাহ পাহাড়ি বলেন,অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ বেশি টাকা দিয়ে গরুর মাংস কিনতে পারে না। আবার ১৫০ বা ২০০টাকা দিয়েও মাংস কিনতে লজ্জা পান। তাদের জন্যই আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে এই আয়োজন। আর যারা একান্তই গরিব তাদের অল্প করে মাংস বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে।