শেরপুর প্রতিদিন ডট কম

Home ময়মনসিংহ বিভাগ শেরপুর জেলা ঝিনাইগাতীতে পরিত্যক্ত ভাঙা অ্যাম্বুলেন্সেই রাত কাটে ‘রুমা’র
ঝিনাইগাতীতে পরিত্যক্ত ভাঙা অ্যাম্বুলেন্সেই রাত কাটে ‘রুমা’র

ঝিনাইগাতীতে পরিত্যক্ত ভাঙা অ্যাম্বুলেন্সেই রাত কাটে ‘রুমা’র

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে পরিত্যক্ত এক অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই রাত কাটাচ্ছেন মধ্যবয়স্ক এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী। এই তীব্র শীতেও ভাঙা অ্যাম্বুলেন্স ও হাসপাতাল চত্বরই যেন তার স্থায়ী ঠিকানা।
স্থানীয়রা বলছেন, অজ্ঞাত ওই মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে কিছু জিজ্ঞেস করলে শুধু তার নাম ‘রুমা’ এটাই বলতে পারেন। ঠিকানা জিজ্ঞেস করলে উত্তর দেন ‍‘আদালত’।
নিজের সম্পর্কে আর কিছুই বলতে পারেন না তিনি। গত তিন/চার মাসেরও বেশি সময় ধরে থাকছেন ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর ও পরিত্যক্ত অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে। তীব্র শীতে কোনো গরম কাপড় ছাড়াই এখানেই রাত্রি যাপন করেন তিনি। আবার কখনো বিভিন্ন ভবনের খোলা জায়গাতেও রাত্রিযাপন করতে দেখা যায় তাকে। সারা দিন বাজার ঘুরে উচ্ছিষ্ট খাবার সংগ্রহ করে ক্ষুধা নিবারণের মাধ্যমেই কাটে তার সময়।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, গত অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে হাসপাতাল চত্বরে দেখা মেলে রুমার। প্রথম দিকে কারো সাথে কথা না বললেও, এখন নাম জিজ্ঞেস করলে উত্তর দেন রুমা। ঠিকানা সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা না দিতে পারলেও কোনো আদালত এলাকার ইঙ্গিত করেন তিনি। স্থানীয় চা দোকানীরা মাঝেমধ্যে চা বিস্কুট খেতে দেন রুমাকে। এছাড়া হাসপাতালের সামনের এক দোকানদারের কাছে খাবার খান তিনি। তীব্র শীতে তার পরিচয় চেয়ে একটি পোস্ট ছড়িয়ে যায় ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
সম্প্রতি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভয়েস অব ঝিনাইগাতী এবং শেরপুর ৭১ এর সদস্যরা খাবার, শীত বস্ত্র ও কম্বল নিয়ে রুমার খোঁজ করেন। তাকে পাওয়া যায় পরিত্যক্ত অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর।
স্থানীয়রা জানান, গত তিন/চার মাস ধরে এখানেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন রুমা। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তার পরিবারের পরিচয় বের করা জরুরি। তার প্রকৃত চিকিৎসাও প্রয়োজন। তাহলে হয়তো রুমা আবারও সুস্থ হয়ে উঠবে।
ঝিনাইগাতী সদরের ইউপি সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভয়েস অব ঝিনাইগাতীর প্রতিষ্ঠাতা জাহিদুল হক মনির বলেন, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভয়েস অব ঝিনাইগাতীর সদস্যরা নিয়মিত ওই নারীর বিষয়ে আমরা খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছি। আপাতত তাকে খাবার ও শীতবস্ত্র দেওয়া হয়েছে। তার পরিচয়ের বিষয়ে শুধু রুমা বাদে আর কিছুই বলতে পারেন না। আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা ইতোমধ্যে ফেসবুকে রুমার ছবিসহ পরিচয় জানতে চেয়ে পোস্ট করেছেন। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই আমরা তার পরিবারের খোঁজ বের করতে পারব।
স্থানীয় মো. ইন্তাজ আলী জানান, রুমা মানসিকভাবে অসুস্থ। অনেক কিছুই সে মনে রাখতে পারে না। সকালের কথাও সে বিকেলে বলতে পারে না। তার চিকিৎসা প্রয়োজন। আমার এখানে সে প্রায়ই আসে। আমি তাকে খাবার দেই, সে খুব তৃপ্তি নিয়ে বসে বসে খায়। খেয়েই আবার চলে যায়। সারাদিন ঘুরেফিরে রাতে হাসপাতাল চত্বরের কোন জায়গায়, আবার মাঝে মাঝে অ্যাম্বুলেন্সে ঘুমায়।
মো. হানিফ বলেন, গত তিন/চার মাস ধরে এখানেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন রুমা। তবে সে কোনো অসুবিধার সৃষ্টি করে না। খুবই শান্তভাবে থাকে। মাঝে মাঝে শুদ্ধ ভাষায় কথা বলে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তার পরিবারের পরিচয় বের করা জরুরি। তার প্রকৃত চিকিৎসাও প্রয়োজন। তাহলে হয়তো রুমা আবারও সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। একই কথা জানান স্থানীয় আরও অনেকে।
ঝিনাইগাতী সদরের ইউপি সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভয়েস অব ঝিনাইগাতীর প্রতিষ্ঠাতা জাহিদুল হক মনির বলেন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভয়েস অব ঝিনাইগাতীর সদস্যরা নিয়মিত ওই নারীর বিষয়ে আমরা খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছি, আপাতত তাকে খাবার ও শীতবস্ত্র দেওয়া হয়েছে। তার পরিচয়ের বিষয়ে শুধু রুমা বাদে আর কিছুই বলতে পারেন না। আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা ইতোমধ্যে ফেসবুকে রুমার ছবিসহ পরিচয় জানতে চেয়ে পোস্ট করেছেন। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই আমরা তার পরিবারের খোঁজ বের করতে পারব।
ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আল-আমিন বলেন, নারীটি অজ্ঞাত ও মানসিক প্রতিবন্ধী। যেহেতু হাসপাতাল চত্বরে থাকেন, আমরা তার খোঁজ নেওয়ার ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তার কোনো আত্মীয়-স্বজন পাওয়া গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কোনো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হবে।
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেলের (ওসিসি) জেলা কর্মকর্তা অমিত শাহরিয়ার বাপ্পী বলেন, আমি ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ওই নারীর সম্পর্কে জানতে পারি। নারীটি মানসিক প্রতিবন্ধী বলেও চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। যেহেতু আমরা অসহায় নারী নিয়ে কাজ করি, আমাদের পক্ষ থেকে ওই নারীর চিকিৎসার কাজ করা সম্ভব। তবে শেরপুরে যেহেতু সেইফ হোম নেই, তাই তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা প্রদানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে তার কাছে খাবার ও শীতবস্ত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বছির আহমেদ বাদল বলেন, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে আমরা রুমার বিষয়টি জানতে পেরেছি। তার ছবি তুলে তার পরিচয় জানার চেষ্ট করছি। থানা থেকেও তাকে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here