শেরপুর প্রতিদিন ডট কম

Home ময়মনসিংহ বিভাগ শেরপুর জেলা শেরপুর-১: আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জাপায় প্রার্থিতার জন্য জোরালো লবিং
শেরপুর-১: আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জাপায় প্রার্থিতার জন্য জোরালো লবিং

শেরপুর-১: আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জাপায় প্রার্থিতার জন্য জোরালো লবিং

মেহেদী হাসান শামীম, স্ট্যাফ রিপোর্টার: সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও জাপায় শুরু হয়েছে জোরালো লবিং। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় ৫ মাস বাকি থাকলেও শেরপুরে ভোটের পালে লেগেছে হাওয়া। 

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পেতে ইচ্ছুক নেতারা প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে শুরু করেছেন জোরালো লবিং। এমনকি তারা শুরু করে দিয়েছেন আগাম প্রচারণাও। বিভিন্ন সময় সামাজিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেও হাজির হচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরে রয়েছে তিনটি সংসদীয় আসন। এর মধ্যে সদর উপজেলা নিয়ে শেরপুর-১ আসন, নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলা নিয়ে শেরপুর-২ আসন এবং শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে শেরপুর-৩ আসন। 

জেলার সংসদীয় আসনগুলোর মধ্যে শেরপুর-১ (সদর) আসনে অন্যান্য দলের তুলনায় আওয়ামী লীগের অবস্থান শক্ত। ফলে ১৯৯৬ সাল থেকে এ আসনটি টানা ৫ বার আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান আতিক এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়কাল ব্যতীত ৪ দফাতেই আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল। এ ছাড়া এর আগে একবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফলে এলাকায় সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং জনসম্পৃক্ততার কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে হুইপ আতিউর রহমান আতিকের রয়েছে ভিন্ন ইমেজ।

তবে বিগত পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে রাগ-ক্ষোভ এবং বিভিন্ন সময় কমিটি গঠন নিয়ে অসন্তোষ ও জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের ভেতর আতিকবিরোধী বলয়ও রয়েছে। 

এ বলয় থেকে এবার দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেন-সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছানুয়ার হোসেন ছানু। তার সঙ্গে এ বলয়ে রয়েছেন দুই দফায় দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারমান ও সাবেক পৌর মেয়র হুমায়ুন কবীর রুমান। রয়েছেন জেলা যুবলীগের সভাপতি ও টানা দুবারের ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিবসহ বেশ কয়েকটি সহযোগী সংগঠনের নেতারা।    

এ ছাড়া সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা যুব মহিলা লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট ফাতেমাতুজ্জহুরা শ্যামলীও এবার দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী সদর আসনে। 

এ ছাড়াও শেরপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম নিজাম উদ্দিন আহমদের ছেলে পৌর মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন এবং প্রজন্ম ৭১ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।

তবে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন হুইপ আতিউর রহমান আতিক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছানুয়ার হোসেন ছানু।

অন্যদিকে স্বাধীনতার পর ১৯৭৯ সালে শেরপুর সদর আসন থেকে প্রয়াত মন্ত্রী খন্দকার আবদুল হামিদ এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রাক্তন সচিব মরহুম নজরুল ইসলাম বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। 

তবে জোটের রাজনীতির স্বার্থে ১৯৯১ থেকে ২০০৮-এ ৪টি জাতীয় নির্বাচনে শেরপুর-১ আসনটি কেন্দ্রীয় জামায়াতের প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল যুদ্ধাপরাধের মামলায় মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়া কামারুজ্জামানকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর গত নির্বাচনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শিল্পপতি আলহাজ মো. হযরত আলী ধানের শীষ প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন পান। কিন্তু ঋণখেলাপি হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল হলে বিকল্প হিসেবে প্রার্থী হন তারই কন্যা ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। এবারও ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কাই দলীয় প্রার্থী হচ্ছেন-এমনটা অনেকটাই নিশ্চিত।

অবশ্য জেলা যুবদলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম মাসুদও প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে সম্মানজনক ভোট পাওয়ায় পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি মনোনয়ন পেতে পারেন বলেও মনে করেন দলের একটি অংশ। তবে মাঠে না থাকলেও গুঞ্জন রয়েছে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া কামারুজ্জামানের পুত্র হাসান ইমাম ওয়াফি প্রার্থী হতে পারেন। এ ছাড়াও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল্লাহ গত বারের মতো এবারও দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন।

অন্যদিকে মহাজাটের শরিক হলেও জাতীয় পার্টি, জাকের পার্টি ও জাসদের সঙ্গে শেরপুরের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কোনো সমন্বয় না থাকার অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে তারা নির্বাচনের মাঠে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে ছাড় দিতে নারাজ। এ ক্ষেত্রে জাপা থেকে জেলা জাপার সভাপতি ও প্রাক্তন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ মো. ইলিয়াছ উদ্দিন, জাকের পার্টি থেকে দলের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান পীরজাদা মোস্তফা আমীর ফয়সল এবং জাসদ থেকে জেলা জাসদ সভাপতি মনিরুল ইসলাম লিটন দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছানোয়ার হোসেন ছানু বলেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলাম। সংসদ সদস্য পদে আমি মনোনয়ন পেলে বিজয়ী হব ইনশাআল্লাহ।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, হুইপ আতিউর রহমান আতিক এমপি বলেন, আমি গত ২৬ বছর ধরে শেরপুর সদরে জনপ্রতিনিধির চেয়ারে রয়েছি। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার ওপর আস্থা রেখে আমাকে দুদফায় প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় জাতীয় সংসদের হুইপ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তুলে দেওয়া পতাকার কোনো অমর্যাদা করিনি। এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। দলীয় মনোনয়নে বিজয় নিশান আমার হাতেই উড়বে বলে বিশ্বাস এবং ভরসা রাখি।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মনোনয়নপ্রত্যাশী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কার বাবা হযরত আলী বলেন, আমরা এখন নির্বাচন নিয়ে ভাবছি না। আমাদের সামনে আন্দোলন ছাড়া আর কোনো কিছু নেই। যদি নির্বাচনে যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়, তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার মনোনীতপ্রার্থী তো রয়েছেনই।

বিএনপির আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা যুবদলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আমি মনোনয়ন পেলে বিএনপি এ আসনে জয়ী হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 + 20 =