শেরপুর প্রতিদিন ডট কম

Home শেরপুর জেলা নালিতাবাড়ি বালু তোলায় হুমকিতে বসতি
বালু তোলায় হুমকিতে বসতি

বালু তোলায় হুমকিতে বসতি

মেহেদী হাসান শামীম, স্ট্যাফ রিপোর্টার: শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী জিরো পয়েন্ট এলাকার চেল্লাখালী নদী থেকে বালু উত্তোলন। গত রোববার বিকেলে জিরো পয়েন্টের ৩০০ মিটারের ভেতরে খলচন্দা এলাকায়।

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় খলচান্দা গ্রাম থেকে নদী পাড় ভেঙে গর্ত করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র বালু তোলায় ভাঙনের মুখে পড়েছে খলচান্দা ও বুরুঙ্গা গ্রামের বাড়িঘর। বাড়িঘর রক্ষায় বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ১ কোটি ৫০ লাখ টাকায় উপজেলার চেল্লাখালী নদীর বালুমহালের ইজারা পায় জিলানি এন্টারপ্রাইজ। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই নদীর জিরো পয়েন্ট এলাকার সীমানা নির্ধারণ করে লাল নিশান টানিয়ে দেওয়া হয়। এতে বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক সীমানার জিরো পয়েন্ট ও নোম্যান্স ল্যান্ড এলাকা নির্ধারিত করা হয়। এতে আন্তর্জাতিক সীমানার এক কিলোমিটার এলাকা থেকে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য নূর ইসলাম, বুরুঙ্গা গ্রামের মো. হারুন, নয়ন মিয়া, শফিকুল ইসলাম, খলচন্দ্রা গ্রামের সুনিমল পরমেশর প্রায় এক মাস ধরে জিরো পয়েন্ট এলাকায় শ্যালোইঞ্জিনচালিত ২০টি মেশিন বসিয়ে নদীর তীর ভেঙে গভীর গর্ত করে বালু উত্তোলন করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছেন না স্থানীয় এই বালু ব্যবসায়ীরা। তাঁরা নির্ধারিত লাল নিশানের অন্তত ৩০ গজ বাইরে উজানের দিক থেকে লম্বা পাইপের সাহায্যে বালু উত্তোলন করছেন। এই বালু তোলে নদীর পশ্চিম পাশে বন বিভাগের জঙ্গলে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। নদীর পূর্ব পাশে বালু আটটি স্তূপ করে রাখা হয়েছে।

গত রোববার বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, খলচন্দা গ্রামে ভারত-বাংলাদেশের জিরো পয়েন্ট ঘেঁষে লম্বা পাইপ বসিয়ে নদী থেকে বালু তোলা হয়েছে। নদীতে ২০ থেকে ২৫টি শ্যালো মেশিন বন্ধ করে ফেলে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অর্ধশতাধিক বালু তোলার পাইপ নদীতে রয়েছে। নদী থেকে বালু তোলায় নদীর দুই পাড়ে প্রায় ৫০০ মিটার ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। বালু নদীর পশ্চিম পাশে জঙ্গলে পাঁচটি ও পূর্ব পাশে আটটি জায়গায় বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে। তবে এ সময় জিরো পয়েন্টে কোনো মেশিন চালু ছিল না। তাই কোনো শ্রমিক ও বালু ব্যবসায়ীকে পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বালু ব্যবসায়ী বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেল্লাখালী নদীর উত্তরের শেষ প্রান্তে লাল নিশান টানিয়ে আমাদের সীমানা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা লাল নিশানের ভেতর থেকেই নিয়ম মেনে বালু উত্তোলন করছি। এখন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে।’

অভিযুক্ত ওই বালু ব্যবসায়ীদের বক্তব্যের জন্য তাঁদের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বালুমহালের ইজারাদার জিলানি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবদুল কাদির জিলানির মুঠোফোনের একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খৃষ্টফার হিমেল রিছিল বলেন, বালু উত্তোলনে সীমানা নির্ধারণ করে লাল পতাকা দেওয়া হয়েছে। সীমানা আইন ভঙ্গ করে বালু উত্তোলনের বিষয়টি নজরে আসায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু তোলা বন্ধ করে দিয়েছেন। এরপরও যদি কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

8 − seven =