শেরপুর প্রতিদিন ডট কম

Home শেরপুর জেলা ঝিনাইগাতি শেরপুরে সরিষার বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
শেরপুরে সরিষার বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

শেরপুরে সরিষার বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

শফিউল আলম লাভলু: সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে শেরপুরের কৃষকদের। যতদূর চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। দূর থেকে দেখলে মনেই হবে না যে, সরিষার চাষ। এ যেন প্রকৃতির ঢেলে দেওয়া হলুদের সমারোহ। বাড়তি ফসল হিসেবে কৃষকদের সরিষা চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে জেলা কৃষি বিভাগ বলছে সরিষা আবাদে আগ্রহ বৃদ্ধি করতে চাষীদের দেওয়া হচ্ছে প্রনোদনা ও নিয়মিত পরামর্শ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, জেলায় বিগত বছরের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে এই বছরে ১২ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এই বছরে জেলায় সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮হাজার ৯০৭ হেক্টর জমিতে। কৃষি বিভাগের হিসাবের বাইরে আরও বেশী জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে বলে চাষিদের দাবি। ২০২১ সালে ৭ হাজার ৮২ হেক্টর, ২০২০ সালে ৭ হাজার ২১৫ হেক্টর , ২০১৯ সালে ৬ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়। জেলার চরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশী সরিষার আবাদ হয়েছে। আর পাঁচ উপজেলার মধ্যে নকলাতে সর্বাধিক পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে এই তেল বীজের উৎপাদন হয়েছে বলে জানা গেছে। কৃষকরা স্থানীয় জাতের পাশাপাশি বারি সরিষা-১৪ ও ১৫, ১৭, বিনা-৯, ৪ ও ১১, টরি-৭ সরিষার আবাদ করে লাভের মুখ দেখছেন। নভেম্বর মাস থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সরিষা চাষের উপযুক্ত সময়। তাই এই সময় সরিষার ফুলে ভরে গেছে মাঠ। সরিষা চাষে বাম্পার ফলন পেয়ে কৃষকরাও বেশ খুশি।

নকলা উপজেলার কুর্শা এলাকার কৃষক লিয়াকত জানান, গত কয়েক বছর ধরেই ধান চাষে তেমন লাভ হয় না। আর এ কারণেই প্রতি বছরই লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই বিকল্প ফসল হিসেবে অন্য ফসলের পাশাপাশি সরিষা চাষের প্রতি আগ্রহী হয়েছি। চরকৈয়া গ্রামের কৃষক ফরিদুল ইসলাম জানান, অন্যান্য ফসলের মতো সরিষা আবাদে তেমন শ্রমের প্রয়োজন হয় না। জমি থেকে পাকা সরিষা সংগ্রহ ও মাড়াই করে ফসল ঘরে তোলার জন্য পরিবারে পুরুষের পাশাপাশি নারী, বৃদ্ধ ও শিশু সদস্যরাও নিয়মিতভাবে কাজ করতে পারেন।

পাইস্কা এলাকার কৃষক জুয়েল মিয়া বলেন, অল্প খরচ ও স্বল্প সময়ে সরিষার ফলন ঘরে তোলা যায়। ঝড় বৃষ্টি না হওয়ায় চলতি মৌসুমে সরিষার ফলনও হয়েছে বেশ। সরিষার বর্তমান বাজারদর অনেক ভাল। রোদে শুকিয়ে গুদামজাত করে পরে বিক্রি করতে পারলে সরিষার বাজারদর আরও বেশি পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কিন্তু অভাবের তাড়নায় ফসল তুলার পরই বিক্রি করে দিতে হয়।

নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এবছর ৫হাজার ৫জন কৃষকদের দেওয়া হয়েছে সরিষার প্রনোদনা। আর কৃষকদের সবসময় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব সময় করা হচ্ছে সহযোগিতা। চলতি মৌসুমে জেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার আবাদ থেকে কৃষকরা বাড়তি মুনাফা আয় করতে পারবেন এই অঞ্চলের কৃষকরা।

এ ব্যাপারে শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সুকল্প দাস বলেন, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে দেশে ভোজ্য তেলসহ অন্যান্য খাদ্য সংকট হতে পারে-এই বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উৎপাদন বাড়াতে এই ইঞ্চি জমিও খালি না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। পরামর্শ অনুয়ায়ি জেলার চাষি, প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ ব্যাপক তৎপর হয়ে উঠে। এই ফলশ্রæতিতে ও সরকারি প্রণোদনার কারণে সরিষাতে এমন সাফল্য এসেছে। সব কিছু ঠিক থাকলে দেশের চাষিরা সরিষা ঘরে উঠাতে পারলে তেলের বিশাল সংকট থেকে দেশ অনেক রক্ষা পাবে। বাঁচবে তেল আমদানির বিশাল বৈদেশিক মুদ্রা।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

nine + nineteen =