টাকায় প্রধানমন্ত্রীর ছবি রাখার প্রস্তাব, শেখ হাসিনার ‘না’

3

জাতীয় মুদ্রা টাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংযুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন এক আওয়ামী লীগ নেতা। তবে তার দাবিতে সাড়া না দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টাকায় একমাত্র জাতির পিতার ছবি থাকবে।’

শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে দলটির ২২তম জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে এ দাবি জানান জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাকী বিল্লাহ।

ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়া জামালপুর আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ‘তলাবিহীন ঝুড়ি আজকে উপচে পড়ছে। আপনার নেতৃত্বে ২০৪১ সালের আগেই উন্নত-স্মার্ট বাংলাদেশ গড়বো আমরা। আপনার ছবি বাংলাদেশের মুদ্রায় দেখলে শান্তি পাবো, আরামে ঘুমাতে পারবো। আপনাকে আগাম অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘টাকায় একমাত্র জাতির পিতার ছবি থাকবে।’ এরপর রসিকতা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাইর দেবো তোমাকে, ভাগো।’

এর আগে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনের শুরুতেই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশের আট বিভাগের দলীয় নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার জন্য সুযোগ করে দেন। এসময় তাদের বক্তব্যে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় ও মনোনয়নের বিষয়টি উঠে আসে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে উদ্দেশে করে ঢাকা বিভাগ থেকে ফরিদপুরের সভাপতি শামীম হক বলেন, ফরিদপুর এমনভাবে সুসংগঠিত করবো। আগামী নির্বাচনে চারটি আসনই আপনাকে উপহার দেবো।

তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের প্রচার সেল অনেক শক্তিশালী। আমাদের প্রচার সেল শক্তিশালী নয়। আমাদের প্রচার সেল শক্তিশালী করে সব অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনা ছাড়া উন্নয়নের বিকল্প নেই। বাঙালির কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী ও সভাপতির পদে নেত্রী আপনি ছাড়া কেউ নেই। আপনাকেই সবাই চায়। আপনিই বাঙালির ঠিকানা।

সিলেট বিভাগ থেকে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমাদের কাউন্সিলরদের প্রত্যেকের মনের ভাষা আপনার নেতৃত্বে যে কমিটি হবে। আমরা মেনে নেবো। আমরা আপনার বাইরে নই।

তিনি বলেন, সারাদেশে বিএনপি অপপ্রচার ও কুৎসা রটাচ্ছে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সিলেটসহ সারাদেশে উন্নয়ন চলছে, আমার বিশ্বনাথবঞ্চিত। কারণ দলীয় এমপি নেই। আগামী নির্বাচনে নৌকা যেনো আর ভাড়া দেওয়া না হয়। আপনি দলের যাকে দেবেন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাকেই নির্বাচিত করবো।

বরিশাল বিভাগ থেকে পটুয়াখালী জেলা সভাপতি কাজী আলমগীর বলেন, নেত্রী আমাদের পটুয়াখালী এখন আর খালি নেই। পায়রা সেতুসহ নানা উন্নয়নে ভরে দিয়েছেন। তিনি বলেন, নেত্রীর কাছে দাবি মাঠ পর্যায়ে যারা রাজনীতি করেন, তাদের থেকে যেন আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

খুলনা বিভাগের পক্ষে নড়াইলের অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র বোস বলেন, আপনি সে নেতৃত্ব দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, কীভাবে শূন্য ঝুড়ি ভরে দিতে হয়। আমরা সবাই আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা ফের আপনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই। বিশ্ববাসীকে দেখিতে দিতে চাই আপনার বিকল্প নেই।

রাজশাহী বিভাগ থেকে বগুড়া জেলা সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, আশা করি এ সম্মেলনের মধ্যদিয়ে যে নতুন কমিটি আসবে, তারা দল ও দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

সভাপতির উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের কেউ দল বিক্রি করে খায়। অনেকে দলকে লালন করে। যারা লালন করে তাদের আগামী নির্বাচনে মূল্যায়ন করলে কেউ পরাজিত করতে পারবে না। সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম নেই বললেই চলে, নামমাত্র কমিটি। সবাই মিলে উন্নয়নের প্রচার করতে পারলে বিপুল ভোটে জয় সম্ভব আমাদের।

জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বগুড়া আমাদের জন্য কঠিন জায়গা, এর মধ্যেও সংগঠন ধরে রাখার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।

রংপুর বিভাগ থেকে ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুহাম্মদ সাদেক কুরাইশী বলেন, নেত্রী স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। আমরা আশাকরি তারই নেতৃত্বে স্মার্ট বাংলাদেশ দেখতে পাবো।