আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চায় রেজাউল করিম

243

মুহাম্মদ আবু হেলাল: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার মাঝি হতে চান শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের রেজাউল করিম। রেজাউল করিম উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ভালুকা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ও দীর্ঘ প্রায় দুই যুগের সাবেক সফল ইউপি চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তাকারী মরহুম সরকার খবির উদ্দিনের ছেলে। শিক্ষাগত যোগ্যতায় বি,এ(অনার্স)এম,এ। পেশায় একজন ঔষধ ব্যবসায়ী। পারিবারিক জীবনে ১ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক।

পুরো পরিবারটি একটি আওয়ামী পরিবার হিসেবে খ্যাত। তার পিতা সরকার খবির উদ্দিন ১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পযর্ন্ত ২ নং নলকুড়া গৌরীপুর ইউনিয়নের ৩ বার এবং ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০২ সাল পযর্ন্ত ৩ নং নলকুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সহিত দ্বায়িত্ব পালন অবস্থায় মৃত্যেুবরণ করেন। বড় ভাই জাকিরুল ইসলাম মিন্টু উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, রফিকুল ইসলাম ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক সদস্য ও ইমদাদুল ইসলাম ঝন্টু উপজেলা ছাত্রলীগের সহ- সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করেন। রেজাউল করিম ছাত্রবস্থায় ১৯৯৫-৯৬ মেয়াদে সরকারি আশেক মাহমুদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, জামালপুর এর পানাউল্লাহ আহম্মেদ মুসলিম হল শাখার ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক, ১৯৯৭-৯৮ সালে শেরপুর সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদের বায়োজিদ- লিপটন পরিষদের সক্রিয় কর্মী, ২০০৩-২০০৫ সাল পযর্ন্ত ঝিনাইগাতী উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন, ২০০৫-২০০৬ সাল পর্যন্ত ঝিনাইগাতী উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়কের দ্বায়িত্ব পালন এবং দলের গঠনতন্ত্র অনুসারে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ছাত্রলীগের সফল সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি সম্পন্ন করা এবং ২০০৬-২০১৩সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের সদস্যপদে দ্বায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি সরকারেরর শেষ সময়ে ষড়যন্ত্রমূলক রাজনৈতিক মামলার শিকার হন। ক্লিন ইমেজ হিসেবে খ্যাত সরকার খবির উদ্দিনের পরিবারটি একটি নিভের্জাল আওয়ামী পরিবার। পিতার মৃত্যেুর পর ওই পরিবার থেকে নলকুড়া ইউনিয়নে কেউ প্রাথীর্তা দেয়নি। দীর্ঘদিন পর আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নলকুড়া ইউনিয়নের সাবেক সফল চেয়ারম্যান মরহুম সরকার খবির উদ্দিনের ছেলে রেজাউল করিমের নাম শোনা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে রেজাউল করিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, ” দল যদি অনুপ্রবেশকারী ও মাইম্যানের রাজনীতিতে বিশ্বাসীদের পরিত্যাগ করে, পারিবারিক ঐতিহ্য, দলের দু:সময়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে আমাকে মনোনিত করেন, সে ক্ষেত্রে আমি আমার পারিবারিক ইমেজ ও দলীয় ইমেজের মাধ্যমে এ ইউনিয়নে দলের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার, ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে এই ইউনিয়নের গর্বের ঐতিহ্য, দুনীর্তিমুক্ত সমাজ, শান্তি, সু-শাসন ও ডিজিটাল ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আরোও বলেন, বর্তমান আওয়ামীলীগের হাই কমান্ড যেভাবে দল পরিচালনা করছেন, সে প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আমি আমার দলের নিকট আমার মুল্যায়নের ব্যাপারে আশাবাদি। কেননা আমাদের পরিবারটি মুক্তিযুদ্ধাদের সহায়তাকারী পরিবার, আমাদের পরিবারে অনুপ্রবেশকারী আওয়ামী লীগ কর্মী বা জামায়াত সমর্থক নেই। সে ক্ষেত্রে আমার পারিবারিক ঐতিহ্য, জনসমর্থন, দলীয় কর্মকাণ্ড,রাজনৈতিক অবস্থান এবং দলের দু:সময়ে রাজনৈতিক ভুমিকার বিবেচনায় আমি আমার ইউনিয়নের অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে অধিকতর মুল্যায়নের আশা রাখি। এ পর্যন্ত নলকুড়া ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সরকার দলীয় যাদের নাম শুনা যাচ্ছে, তারা হলেন- ইউনিয়ন আওয়ামীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা সুরুজ ভূঁইয়া, যুবলীগ নেতা ডাক্তার নবীজল হক রানা, উপজেলা তাঁতীলীগের আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য শামসুল হক, যুবলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম মিলন। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তারা হলেন- দুই বারের সাবেক সফল ইউপি চেয়ারম্যান মো. খলিলুর রহমান ও বিএনপি’র নেতা রোকনুজ্জামান রোকন। এছাড়াও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মজনু মিয়ার নামও শোনা যাচ্ছে।