এএসপি ওসিকে বললেন আমি ইন্টার্নি করতেছি

498

শফিউল আলম লাভলু: ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন সহকারি পুলিশ সুপার (এসএসপি) ভেবে ফোন দিয়ে বলে, “স্যার আপনার পোষ্টিং কোথায়। উত্তরে তিনি বলেন, মামুন সাহেব আমার পোস্টিং ময়মনসিংহ জেলায়। পুনরায় আবার বলেন, স্যার কোন ইউনিটে তিনি বলেন, বুঝলেন না! “আমি ইন্টার্নি করতেছি’’

এসএসপির কথাবার্তায় ওসি মামুনের সন্দেহ হয় এবং তিনি মনেমনে বুঝতে থাকেন এএসপি স্যারগন প্রবেশনার থাকেন, ইন্টার্নি না। একটু কৌশল অবলম্বল করে বলে স্যার একটু অপেক্ষা করেন আমি আপনাকে আনার জন্য আমার গাড়ি পাঠাচ্ছি। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। পরে তাকে আটক করা হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানাযায় সে ভূয়া এসএসপি ও একজন প্রতারক বলে জানাযায়।

সোমবার (১১অক্টোবর) দিবাগত রাতে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় রুপসী গ্রাম থেকে ভুয়া সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) পরিচয়দানকারী সোলাইমানকে আটক করে পুলিশ।  আটক হওয়া ভূয়া এসএসপি সোলাইমান (৩৫) শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের কোচনী পাড়া গ্রামের শাহজাহানের ছেলে। সে কখনো কখনো সেনা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েও বিভিন্ন জায়গাতে প্রতারনা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ফুলপুর থানা সুত্র জানাগেছে, সোলাইমান কবির নিজেকে ৪০তম বিসিএস এর সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে পরিচয় দিয়ে শেরপুর সরকারী কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ফাইনাল বর্ষে অধ্যায়নরত ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রুপসী গ্রামে এক মেয়ের সাথে ফেইসবুকে পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়। এক পর্যায়ে সোলাইমান (ভূয়া এসএসপি) ওই মেয়েটিকে বিবাহের প্রস্তাব দিলে মেয়েটি তার বাড়ীতে গিয়ে প্রস্তাব দিতে বলেন। মেয়েটির কথা মত সোমবার দিবাগত রাতে সোলাইমান বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে ফুলপুরের রুপসী গ্রামে গেলে সোলাইমানের কথাবার্তায় রিপার পরিবারের সন্দেহ হয়। রিপার পরিবার সোলাইমানকে কৌশলে বসিয়ে রেখে ফুলপুর থানায় খবর দেন। পুলিশ খবর পেয়ে রিপাদের বাড়ীতে গিয়ে সোলাইমানকে পুলিশের হেফাজতে নেন।

ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভুয়া সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) পরিচয় দানকারী সোলাইমানের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে আটকের সময় সরকারী বুট, একটি মোবাইল ও মানিব্যাগ উদ্ধার করেন। সে বিভিন্ন পরিচয়ে প্রায় ৩০-৪০ জন মেয়ের সাথে অনুরুপ সর্ম্পকের তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।