ঝিনাইগাতীতে সালিশ বৈঠকে ইউপি সদস্যের উপর হামলার অভিযোগে মামলা

115

মুহাম্মদ আবু হেলাল (ঝিনাইগাতী) শেরপুর: শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে সালিশ বৈঠকে প্রায় শতাধির লোকের উপস্থিতিতে সস্ত্রাসী কায়দায় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ এর উপর হামলার অভিযোগে মো. ফকির আলী(৩৫) নামের এক বখাটের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ফকির আলী উপজেলার ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নের পাইকুড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৮ অক্টোবর আনুমানিক সকাল ১১ ঘটিকার সময়।

বাদীর দায়ের করা অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নের পাইকুড়া গ্রামের উকিল মিয়ার মেয়ে নিরালা বেগমের সাথে একই গ্রামের রাজ ফকিরের ছেলে আল আমিনের গত প্রায় ১ বছর পুর্বে ৩০ হাজার টাকা যৌতুক এবং ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা দেন মোহর ধার্য করে পারিবারিক ভাবে তাদের বিবাহ হয়। বিবাহের ১ বছর পুর্ণ না হতেই ২০/২৫ দিন আগে আল আমিন এক তরফা ভাবে নিরালাকে তালাক দেয়। এ ঘটনার শান্তিপুর্ণ মিমাংসার জন্য ঘটনার দিন, তারিখ ও সময়ে সদর ইউনিয়নের শালদা গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ শামছুল আলমের বাড়ীতে এক সালিশের আয়োজন করা হয়। চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন চাঁন এর সভাপতিত্বে সালিশ বৈঠক শুরু হলে উপস্থিত বিচারকগণ উভয় পক্ষের মতামত জানার পর বিষয়টি শান্তিপুর্ণ নিষ্পত্তিকল্পে ৫ সদস্যের একটি জুরিবোর্ড গঠন করে দেন ইউপি চেয়ারম্যান।

উক্ত জুরিবোর্ডে বখাটে ফকির আলীকে যুক্ত না করায় এক পেষে বিচার হচ্ছে আখ্যা দিয়ে ফকির আলী সকলের উপস্থিতিতে ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদকে ধারালো চাকু দিয়ে আক্রমন করেন এবং বুকে লাথি মারেন। এ ঘটনায় উপস্থিত সকলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং বিচার কার্য স্থগিত করা হয়। পরে একই দিন রাতে ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফায়েজুর অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে রাতেই এফআইআর করেন। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন চাঁন বলেন, একটি গ্রাম্য সালিশ বৈঠকে অনেক লোকের উপস্থিতিতে একজন বখাটে কর্তৃক ইউপি সদস্য আক্রমনের শিকার হবে, এটা কোন ভাবেই কাম্য নয়। আমি এর কঠিন বিচার দাবী করছি। অত্র মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফেরদৌস জানান, আসামী পলাতক থাকায় গ্রেপ্তার সম্ভব হচ্ছেনা। অভিযান অব্যাহত আছে।