ঝিনাইগাতীর চাঞ্চল্যকর কিশোর প্রতিবন্ধী রুবেল হত্যার রহস্য উদঘাটন করলেন পিবিআই

530

মুহাম্মদ আবু হেলাল, ঝিসাইগাতী প্রতিনিধি : শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার চাঞ্চল্যকর কিশোর প্রতিবন্ধী রুবেল মিয়া (১৭) হত্যা রহস্য উদঘাটন করলেন পিবিআই। ফলে একটি জটিল, কঠিন ও কুল কিনারা বিহীন মামলার রহস্য উন্মুচিত হল। পিবিআই এর প্রেস ব্রিফিং সুত্রে জানা যায়, মামলার ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আসামী ঝিনাইগাতী উপজেলার পাইকুড়া নয়াপাড়া গ্রামের মজিবরের ছেলে সোহেল(১৯)কে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তার নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়। রুবেল মিয়া (১৭) এর লাশ পাওয়ার পাওয়ার পরপরই পিবিআই, জামালপুর জেলা মামলাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং স্মারক নং-পিবিআই/মামলা/১৩৮-২০২১/৮৯০/সিআরও(পূর্ব), তারিখ-০৮/০৯/২০২১ খ্রিঃ মূলে মামলাটি স্ব-উদ্যোগে গ্রহন করতঃ পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান এর উপর তদন্তভার অর্পন করেন। ডিআইজি পিবিআই বনজ কুমার মজুমদার বিপিএম(বার),পিপিএম এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই জামালপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার এম.এম. সালাহ উদ্দীন এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান মামলাটি তদন্ত করেন। পিবিআই জামালপুর জেলা কর্তৃক মামলাটি তদন্তকালীন সময়ে পিবিআই জামালপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার এম.এম. সালাহ উদ্দীন এর দিক নির্দেশনায় ও তথ্য প্রযুক্তির সাহায়তায় তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান এর নেতৃত্বে পিবিআই জামালপুরের একটি অভিযানিক টিম মামলার ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত সোহেলকে গ্রেফতার করতঃ ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। সোহেলকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় যে, অত্র খুনের মূল পরিকল্পনাকারী তার আপন খালাত ভাই সোহরাব (২০) ও সে নিজে। এই দু’জন অত্র খুনের ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত। সোহেল পিবিআইকে আরো জানায়, পলাতক আসামী সোহরাব এবং সে একি সাথে চলাফেরা করত এবং মাঝে মাঝে মোবাইলে আইপিএল এ জুয়া খেলতো। পলাতক আসামী সোহরাবের কাছে ভিকটিম রুবেল মিয়ার আইপিএল এর জুয়ার পাওনা টাকার বিষয় নিয়া ঘটনার ২ দিন আগে পাইকুড়া হাই স্কুল মাঠে ঝগড়া হয়। তখন সোহরাব ও সোহেল একত্রে রুবেলকে খুন করার পরিকল্পনা করে। তাদের পরিকল্পনার অংশ হিসাবে গত ১৯ আগষ্ট বিকাল আনুমানিক ৪ ঘটিকার দিকে সোহরাব মিয়া ফোন করে সোহেলকে পাইকুড়া বাজারে আসতে বলে। সোহরাবের কথামত সোহেল পাইকুড়া বাজারে আসার পর সোহেল এবং সোহরাব মিয়া কিছুক্ষন বাজারে ঘোরাফেরা করে। সন্ধ্যার আগে রুবেল মিয়া পাইকুড়া বাজারে আসার পর সোহরাবের সাথে দেখা হয়। পরে সোহরাব ও সোহেল ভিকটিম রুবেলকে সাথে নিয়ে পাইকুড়া হাই স্কুল মাঠে যায় এবং ৩ জন মিলে সোহরাবের মোবাইলে লুডু খেলে। এরপর তারা অনেকক্ষন বাজারে ঘোরাফেরার পর সোহরাব তাকে ২৫/-টাকা দিয়ে একটি স্পিড কিনে আনতে বলে সে হালিমের দোকান থেকে ২৫ টাকা দিয়ে ১ টি স্পিড কিনে ভাগাভাগি করে ৩ জনে খেতে খেতে কালীবাড়ী মোড়ের সামনে ব্রিজের কাছে যায়। ব্রিজের কাছে যাওয়ার পর সে এবং সোহরাব ভিকটিম রুবেলকে নিয়া মাছ ধরা বরুং তোলার জন্য কানি বিলে যায়। কানি বিলে যাওয়ার পর তারা ক্ষেতের পাশে ১ টি বাতর (আইল) দাড়ায়ে সোহেল ও সোহরাব লুঙ্গির কাছা মারে। এক পর্যায়ে সোহের ও সোহরাব পিছন থেকে রুবেলকে ঝাপটে ধরে ক্ষেতের কাঁদা পানিতে উপুর করে ফেলে দিয়ে সোহেল রুবেলের পিঠে বসে এবং সোহরাব রুবেলের মাথা চাপ দিয়ে কাঁদার সাথে ধরে রাখে। অনুমানিক ৫ মিনিট পর রুবেল মারা যায়। তখন সোহেল রুবেলের পকেট থেকে তার ব্যবহৃত টাচ ফোন এবং পকেটে থাকা ৫হাজার টাকা নিয়ে নেয়। এই বিষয়ে পিবিআই জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার এম.এম. সালাহ উদ্দীন বলেন যে, অত্র মামলার ঘটনার সাথে জড়িত বর্ণিত আসামীসহ পলাতক আসামী সোহরাব মিয়া আইপিএল এর জুয়ার পাওনা টাকার বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রতিবন্ধী ছেলে রুবেল মিয়া (১৭) কে পরিকল্পনা মোতাবেক হত্যাকরে তার লাশ ঝিনাইগাতী থানাধীন জনৈক সাহাজ উদ্দিন মাস্টারের অনাবাদি ক্ষেতের পানিতে কুচুরী পানার ভিতরে গুম করার উদ্দেশ্যে লুকাইয়া রাখে। অত্র খুনের ঘটনার সাথে পিছনে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পলাতক আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী থানার ওসি মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান জানান, পাইকুড়া এআরপি উচ্চ বিদ্যালযের দশম শ্রেনীর প্রতিবন্ধি ছাত্র রুবেল এর গলিত লাশ উদ্ধার, খসে পড়া মাথার খুলি পরদিন উদ্ধার এবং মৃত রুবেলের মোবাইল ফোন উদ্ধারে থানা পুলিশ, পিবিআি ও সিআইডি বাংলাদেশ পুলিশের যৌথ অভিযানে পরিচালনা মাধ্যমে একটি চাঞ্চল্যকর, গুরুত্বপূর্ণ অজ্ঞাত ঘটনার রহস্য উদঘাটনে এবং আমাদের অভিযানের ১০মিনিট পূর্ব ব্যবধানের পিবিআই বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃক উক্ত মোবাইল উদ্ধারের মাধ্যমে একটি সফল সমাপ্তি সূচনা হয়। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ এর প্রতিটি ইউনিট যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমান আইজিপি স্যারের প্রত্যক্ষ তত্বাবধায়নে অনেক বেশী পেশাদার, আন্তরিক, সহযোগিতাপূর্ন এবং দক্ষ। তিনি পিবিআই সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সহযোগীতার জন্য, অল্প সময়ে এমন অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জনে ধন্যবাদ জানান।