বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনের অবকাঠামো না সড়ানোয় নতুন ভবন নির্মাণে জটিলতা

62

স্টাফ রিপোর্টার: শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বুরুঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত পুরনো ভবনের অবকাঠামো যথাসময়ে না সড়ানোর ফলে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না প্রস্তাবিত নতুন দ্বিতল বিশিষ্ট বিদ্যালয় ভবনের। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ নিয়ে জটিলতায় পড়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান, পাঠদান নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা শিক্ষা অফিস ও এলজিইডি’র দেওয়া তথ্যমতে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থায়নে এবং এলজিইডি’র তত্ত্বাবধানে ৮৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বরাদ্দে বুরুঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত দ্বিতল নতুন ভবন নির্মাণের কাজ পায় মুকুল এন্টারপ্রাইজ। গেল বছরের ৮ ডিসেম্বর প্রস্তাবিত নতুন ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হলেও প্রস্তাবিত ভবনের স্থানে পুরনো পরিত্যক্ত ভবন থাকায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে পুরনো পরিত্যক্ত ভবনটি ১ লাখ ১৫ হাজার টাকায় আকাশ এন্টারপ্রাইজকে নিলামে দেয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। কিন্তু নিলামে নেওয়ার পর নানা অজুহাতে টালবাহানা শুরু করে আকাশ এন্টারপ্রাইজ। বিদ্যালয় ও এলজিইডিসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের চাপের মুখে পুরনো ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা হলেও এখনও পর্যন্ত মাটির গভীরে থাকা অবকাঠামো সড়ায়নি আকাশ এন্টারপ্রাইজ। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে প্রস্তাবিত নতুন ভবনের কাজ শুরু করতে পারছে না এর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মুকুল এন্টারপ্রাইজ। চলতি বছরে ১৪ আগস্টের মধ্যে নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ করার কথা থাকলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (৪ মে) বিন্দুমাত্র অগ্রগতি হয়নি কাজের। উপরন্তু প্রস্তাবিত ভবনের পাইলিংয়ের কাজের জন্য ‘রিখ’ এনে প্রায় দুই সপ্তাহ বসিয়ে রাখার পর লোকসান গুণে ফেরত পাঠিয়েছেন ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে মুকুল এন্টার প্রাইজের প্রতিনিধি হাফিজুল ইসলাম জুয়েল জানান, কার্যাদেশ পাওয়ার প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও আমরা কাজ শুরু করতে পারিনি। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে না। উপরন্তু আমাদের লোকসান গুণতে হচ্ছে নিলামে পুরনো ভবন নেওয়া আকাশ এন্টারপ্রাইজের গাফিলতির কারণে।
তত্ত্বাবধানকারী কর্তৃপক্ষ উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আমি বারবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে পুরনো ভবন সড়ানোর জন্য পরামর্শ দিলেও তা সড়ানো হচ্ছে না। ফলে আমাদের কাজ শুরু করতে পারছি না। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে গেল এপ্রিলের মাসিক সমন্বয় সভায় উত্থাপন করা হলে তিন দিনের মধ্যে পুরনো ভবন সড়ানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন অগ্রগতি নেই।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম জানান, পুরনো ভবনের কিছু অংশ ভেঙে সড়ানো হয়েছে। এখনও কিছু অংশ সড়ানোর বাকী আছে। আকাশ এন্টারপ্রাইজকে বলা হয়েছে। তারা বলেছেন যে দ্রুত সড়িয়ে নেবেন। আকাশ এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী বাবুল হোসেন জানান, শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ভবনটি ভেঙ্গে সড়ানো সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত সড়িয়ে ফেলা হবে।