নকলায় ৫৫ মামলায় ১৮০জন গ্রেফতার: ৫ দিনে চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উদঘাটন

76

স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুরের নকলা থানা পুলিশ সাড়ে তিন মাসে ২৬টি মামলায় ১২৭ জন, মাদকের ২৯টি মামলায় ৫৩জনসহ আরো ১৮০ জনের গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিল করেছে বলে জানা গেছে। খোদেজা বেগম (৬০) নামের চাঞ্চল্যকর এক বৃদ্ধা হত্যা মামলার ৫ দিনে রহস্য উদঘাটন করে আলোড়ন সৃস্টি করছেন থানা পুলিশ। মো. মুশফিকুর রহমান নকলা থানায় ২০২০ সালের ১৮ নভেম্ভর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি ময়মনসিংহ কোতয়ালী থানায় ওসি (তদন্ত) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তিনি নকলা থানায় যোগদানের পর কিছুটা আইনশৃঙ্খলার প্রেক্ষাপট পাল্টে যায়। ২০২১ সালের জানুয়ারী মাস থেকে তিনি একটু নড়েচরে বসেন। শুরু হয় মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, নারি ও শিশু নির্যাতনের উপরে শুদ্ধি অভিযান। গত বছর জুয়ায় গ্রেফতার ছিল শুন্যের কোটায়। জানুয়ারী মাস থেকে এপ্রিলের ১১ তারিখ পর্যন্ত ২৬টি জুয়া মামলায় ১২৭জনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরন করেন। যাহা গত দুই বছরেও সম্ভব হয় নি। চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার ৫ দিনে রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ বিভাগের মুখ উজ্জল করেছেন তিনি।

নকলা থানার তথ্যমতে, জানুয়ারী মাসে ১টি জুয়া মামলায় ৩জন, ফেব্রুয়ারীতে ১২টি মামলায় ৫৮জন, মার্চে ৯টি মামলায় ৪৭জন, এপ্রিলের ১৪ তারিখ পর্যন্ত ৪টি মামলায় ১৯জনকে জুয়াড়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানুয়ারী মাস থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ২৯টি মাদক মামলায় ৫৩ জনকে গ্রেফতার করেছেন। উদ্ধার করেছেন ৯৬৬ গ্রাম গাঁজা, ২৬০ পিস ইয়াবা, ৮ গ্রাম হেরোইন। জিআর মামলায় ১১৫ জন, সিআর মামলায় ৭০ জন ও সাঁজায় আরো ৩ জনের গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিল করেছেন। উপজেলার নকলা ইউনিয়নের ধনাকুশা মধ্যপাড়ায় নিখোঁজের চারদিন পরে খোদেজা বেগম (৬০) নামের এক বৃদ্ধার বস্তাবন্ধি মরদেহ উদ্ধার করেন পুলিশ গত ১১ মার্চ। পরে তার ছেলে খোরশেদ আলী বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ সুপার হাসান নাহিদ চৌধুরীর নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ হান্নান মিয়া তদারকীতে ৫ দিন পরই এই হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করে মূল হত্যাকারী তার দেবর দুলাল মিয়া (৫০) কে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করেন। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) নকলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাসানুজ্জামান যায়যায়দিনকে জানান, আমরা ১৬ মার্চ সকালে দুলাল মিয়াকে গ্রেফতার করলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সেই তার ভাবী খোদেজা বেগমকে হত্যা পরে লাশ বস্তাবন্দি করে মাটিতে পুতে রেখেছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই তার বিরোদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

নকলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুশফিকুর রহমান যায়যায়দিনকে বলেন, শেরপুর জেলা পুলিশ সুপার হাসান নাহিদ চৌধুরী স্যারের নির্দেশক্রমে ও সদর সার্কেল স্যারের পরামর্শে থানার সকল অফিসার ও ফোর্সদের সাথে নিয়ে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় প্রত্যোকটা অভিযান সফলভাবে করতে পেরেছি। এ ক্ষেত্রে নকলার রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা সহযোগিতা করেছে। তবে আমি এখানে রাজনৈতিক নেতাদের ভিন্নরুপ দেখেছি। জুয়া, মাদক, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে কোন নেতা সুপারিশতো দূরের কথা আমাকে একটা ফোনও দেননি কেউ।তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের ঘোষনা অনুযায়ী আমরা পুলিশ পুলিশী সেবা জনগনের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দিতে বদ্ধপরিকর। পুলিশ হবে জনতার ও জনবান্ধব।আমরা কি পেলাম এটা আমাদের কাছে বড় বিষয় নয়, আমরা জনগনকে কি সেবা দিতে পেরেছি সেটাই আমাদের কাছে বড় বিষয়। সকলের সহযোগিতা চাই। সকলের সহযোগিতা পেলে এই উপজেলাকে জুয়ামুক্ত উপজেলা ঘোষনা করতে পারব।