নকলায় টমেটোর মন ২০ টাকা!

44

স্টাফ রিপোর্টার: শেরপুরের নকলায় দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন টমেটো চাষীরা। এ অবস্থায় খরচ না উঠায় অনেক কৃষক ক্ষেত থেকে টমেটো তোলা বন্ধ করে দিয়েছেন। যদিও কেউ বাজারে নিয়ে আসছেন বেঁচতে না পেরে ফেলে দিয়ে যাচ্ছেন। পাইকাররা বলছেন ২০ টাকা মন কিনলেও খরচ বাদে কোন লাভ থাকে না। এদিকে কৃষি বিভাগ বলছেন এবছর টমেটোর উৎপাদন বেশি হওয়ায় প্রথম দিকে দাম ভালই ছিল কিন্ত শেষ দিকে দাম করে গেছে। এ বছর নকলা উপজেলায় টমেটোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২০ হেক্টর। আর আবাদ হয়ে ৩২০ হেক্টর জমিতে। প্রনোদনা পেয়েছেন ৫শ কৃষক।

অনেকেই ক্ষেত থেকে টমেটো তোলা বন্ধ করে দিয়েছেন। যদি হিমাগার থাকতো তাহলে হয়তো টমেটো কয়েকদিন রেখে বিক্রি করতে পারতো। দাম না পাওয়ায় টমেটো এখন গরু/ছাগলের খাবারে পরিণত হয়েছে। শুরুর দিক লাভের মুখ দেখলেও মৌসুমের শেষের দিকে এসে উৎপাদন খরচ তুলতে কৃষকদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের লোকসানের হাত থেকে রক্ষা করতে আগামীতে এ অঞ্চলে সরকারিভাবে হিমাগার নির্মাণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

টমেটো চাষী এরশাদ আলী বলেন, ৫ কাঠা জমিতে এবছর আমার চমেটো চাষে খরচ হয়েছে ৪৫হাজার টাকা। খরচের ১০ হাজার টাকাও এখনো তুলতে পারিনি। গেল বাজারে টমেটো বিক্রি করতে এনে দাম পায়নি। আরো উল্টো গাড়ী ভাড়া বাবদ ৫শটাকা গুনতে হইছে। পুনরায় খরচ করে টমেটো বাড়িতে ফেরত নিতে হলে আরো ৫শ টাকা গুনতে হবে। যার কারনে রাস্তায় ফেলে দিতে হয়েছে টমেটো।

টমেটোর পাইকার মোরাদ মিয়া ও আমিনুল ইসলাম বলেন, টমেটোর তেমন কোন চাহিদা নেই। পঁচনশীল রসালো সবজি হওয়া পাকা টমেটো ২/১দিনের বেশি রাখাও যায় না। উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে চাহিদাও কম। সস কোম্পানীগুলো টমেটো ক্রয় করতে চাচ্ছে না। ৪/৫কেজি টমেটো গরু/ছাগলে খেলেও পরে আর খেতে চায় না। গত চালানে টমেটো ঢাকা বিক্রি করতে নিয়ে আমরা নিজেরাও বিপাকে পড়েছি।

নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, প্রথম দিকে কৃষকরা টমেটোর ভালো দাম পেয়েছিল। এই সময় টমেটোর দাম কম থাকে। এখন সারা বাংলাদেশে টমেটো উঠতে শুরু করেছে তাই দাম কম। তবে কৃষকরা যদি আগাম টমেটো চাষ করে তাহলে লোকসান গুনতে হবে না। তবে আগামী বছর কৃষক যাতে সরাসরি ঢাকার পাইকারদের কাছে বা সরাসরি সস কোম্পানীগুলোতে টমেটো বিক্রি করতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হবে।