নকলায় সরিষার বাম্পার ফলন

24

নকলা, শেরপুর: সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে শেরপুরের নকলা উপজেলার কৃষকদের। দিগন্তজুড়ে যতদূর চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। দূর থেকে দেখলে মনেই হবে না যে, সরিষার চাষ। এ যেন প্রকৃতির ঢেলে দেওয়া হলুদের সমাহার। বাড়তি ফসল হিসেবে কৃষকদের সরিষা চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে সরিষা আবাদে আগ্রহ বৃদ্ধি করতে চাষীদের দেওয়া হচ্ছে প্রনোদনা ও নিয়মিত পরামর্শ।

উপজেলার চন্দ্রকোনা, নারায়নখোল, উরফা ও নকলা ইউনিয়নে সরিষার আবাদ বেশি হয়ে থাকে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, গেল বছর নকলা উপজেলায় ১৪শ ৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আর চাষ হয়েছে ১৬শ ৫০হেক্টর জমিতে। এবছর ১৬শ ৫০হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর চাষ হয়েছে ১৮শ ৫০ হেক্টর। এবার কৃষকরা স্থানীয় জাতের পাশাপাশি বারি সরিষা-১৪, ১৫, ১৭, বিনা-৯, ৪ ও ১১, টরি-৭ সরিষার আবাদ করে লাভের মুখ দেখছেন। নভেম্বর মাস থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সরিষা চাষের উপযুক্ত সময়। তাই এই সময় সরিষার ফুলে ভরে গেছে মাঠ। সরিষা চাষে বাম্পার ফলন পেয়ে কৃষকরাও বেশ খুশি।

চলতি মৌসুমে জেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। এবছর ২হাজার ৯শ ২০জনকে কৃষকদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে প্রনোদনা। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার আবাদ থেকে কৃষকরা বাড়তি মুনাফা আয় করতে পারবেন এই অঞ্চলের কৃষকরা।

স্থানীয় সরিষা চাষীরা জানান, গত কয়েক বছর ধরেই ধান চাষে তেমন লাভ হয় না। আর এ কারণেই প্রতি বছরই লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই বিকল্প এবং বাড়তি ফসল হিসেবে অন্য ফসলের পাশাপাশি সরিষা চাষের প্রতি আগ্রহী হয়েছি। খুব বেশি খরচ হয়নি। তারপরও সরিষা গাছত ভালো ফুল ধরিছে। আশা করিচ্ছি, ফলনও ভালো হবে।’ ফলন দেখে মনে হচ্ছে, গতবারের চেয়ে উৎপাদনও আরও বেশি হবে। সে কারণে এবার বেশি লাভের আশা করছি।’

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে নিয়মতি প্রনোদনা। আর কৃষকদের সবসময় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে সহযোগিতা। আমরা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করতেছি। উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারাও সব সময় মাঠে করতেছে। অনুকূল আবহাওয়া আর যথাযথ পরিচর্চার কারণে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় সরিষার উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এবং গত কয়েক বছর ধরে বাজারে সরিষার ভালো দাম থাকায় চাষিরা দিন দিন সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকছেন।