যেন সামনে দাড়িয়ে দেখছি দৃশ্যমান পদ্মাসেতু

61

বিজয়ের মাসে পদ্মার এপাড় – ওপাড় এক করে সগৌরবে মাথা উঁচু করে দৃশ্যমান হয়েছে পুরো পদ্মা সেতু..
আহ্ কি দৃশ্য, উপভোগ করার মত আহ্ কি দারুন উপলক্ষ্য !

২০১৪ সালে কাজ শুরু হয়ে ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান বসানো হয়। এর আগে পরে
কত কথা, কত বাধা, কত চ্যালেঞ্জ ।
সবকিছু মোকাবিলা করে অবশেষে পদ্মার বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে পুরো পদ্মা সেতু। ৩ বছর ২ মাস ১০ দিন শেষে গত ১০ ডিসেম্বর সেতুর সব স্প্যান বসানো শেষ হয়েছে। এ এক অনন্য সফলতার গল্প।
প্রচন্ড শীত, সবচেয়ে বড় কথা শারীরিক অসুস্থতা, লং জার্নিতে নিষেধাজ্ঞা নতুবা দেখতে চলে যেতাম মাথা উচুঁ করে দাঁড়ানো পদ্মা সেতু।
যেতে পারছিনা, আফসোস , তবে পদ্মার নির্মল পরিবেশে মাথা উঁচু করে থাকা পুরো পদ্মা সেতু দেখতে নানা প্রান্তের দর্শনার্থীরা ভীড় করছেন, মিডিয়া মারফত এমন খবর দেখে, তাদের কাতারে স্বপ্নের আলোকে নিজেকে ভেবেই যেন অনেক শান্তি পাচ্ছি।
আর পদ্মাসেতুতো এই জাতির এক অনন্য প্রাপ্তিই। তাই সহজ ভাষায়, যে যেখানেই থাকুক পুরোপুরি দৃশ্যমান পদ্মা সেতুকে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে সামনে থেকে দেখার সৌভাগ্যই তৈরী হয়েছে পুরো জাতির সামনে।
স্বপ্নের পদ্মাসেতুর বাস্তবতাতো এখন সামান্য দূরত্বে।
এইতো পৌছে যাবো …

সেতুর সংযোগ সড়ক, রেল প্রকল্প ও ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে – সবকিছু স্বপ্নের আঙ্গিনায় এনে যেন অন্যরকম ভালা লাগা সৃষ্টি হচ্ছে। পদ্মা সেতুতো শুধু একটি সেতু নয়, দেশের কোটি মানুষের আবেগ অনুভূতি জড়িয়ে আছে এই সেতুর সঙ্গে। দেশের সম্মান জড়িয়ে আছে এই সেতুর সঙ্গে।

রোডওয়ে স্ল্যাব, রেলওয়ে স্ল্যাব, সুপার-টি গার্ডার বসানো, স্ল্যাবের ওপর পিচ ঢালাইয়ের কাজ, আলোকসজ্জা, ল্যাম্পপোস্ট বসানোসহ এখনো অনেক কাজ বাকি । সব মিলিয়ে যান চলাচলের জন্য সেতু উন্মুক্ত করতে আরো বছর খানিক লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে ব্যর্থতার আশংকায় গালগল্প এবং উপহাসের অবসান যে হচ্ছে, এটা ভেবেই পুলকিত হচ্ছি।

সবকিছুতে রাজনীতি চলেনা। সবকিছুকেই রাজনৈতিকভাবে ভাবলে সুনাগরিক প্রসঙ্গ প্রশ্নবিদ্ধ হয়। পদ্মাসেতু কতটা কল্যাণ বয়ে আনবে, দু পাড়ের মানুষকে কতটা অনাবিল আনন্দে ভাসাবে, দেশের সামর্থ্যকে বিশ্ব দরবারে কতটা উঁচুস্তরে নিয়ে যাবে , দ্রুত সময়ে কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় পৌছাতে কতটা সহায়ক হবে, এককথায় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে কতটা সহায়ক ভুমিকা পালন করবে .. এমন প্রশ্নে যারা ভাবনা আঁকতে পারেননা, তাদেরকে আমি ব্যর্থ নাগরিক বলবো ।
আসুন সবাই সুনাগরিক হই এবং ভাবতে শিখি মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো পদ্মা সেতুর সঙ্গে সকলের অংশিদারিত্বের কথা। ভাবতে শিখি, পদ্মাসেতুর স্বয়ংসম্পূর্ণতা হবে আমাদের পুরো দেশবাসির এক নির্মল বিজয়ের গল্প।

পদ্মা সেতু একটি ইতিহাস এবং অবশ্যই আমাদের গর্ব করার মত উপলক্ষ্য।
জাতীয় জীবনে এমন ইতিহাস সৃষ্টি এবং গর্বিত হওয়ার দ্বার উন্মোচন করে দেওয়ার জন্য অবশ্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে ধন্যবাদ জানাই।

…এ.জেড রুমান
শেরপুর প্রতিদিন