নকলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা ॥ বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণন

16

নূরে আল জুবাইদ, শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় ৪২তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে বিজ্ঞান মেলা-২০২০ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এ মেলা শুরু হয় এবং দিনের শেষ বিকেলে জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড-২০২০ এর সমাপণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যাদুঘরের পৃষ্ঠপোষকতায় নকলা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আব্দুর রশিদের সঞ্চালনায় বৃহস্পতিবার বিকালে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মো. বোরহান উদ্দিন। এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সারোয়ার আলম তালুকদার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. ফরিদা ইয়াছমিন, সারকারি হাজী জালমামুদ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আলতাব আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উরফা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল হক হীরা, নকলা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ওমর ফারুকসহ উপজেলায় কর্মরত সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর প্রধানগন, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগন ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন।

এ মেলায় উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের অন্তত ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান বিষয়ক স্টল বসায়। অংশ গ্রহণকারী মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তাদের তৈরীকৃত প্রজেক্ট গুলো হলো- নকলা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রাডার টেকনোলজি, কনভেয়র বেল্ট, ইজি এন্ড সেইফ সেনিটাইজার; চন্দ্রকোনা রাজলহ্মী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জ্বালানি সাশ্রয় যন্ত্র, ইকেক্ট্রিক তালা ও সৌর শক্তির সাহায্যে সেচ ও ল্যাম্পপোস্ট; গণপদ্দী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ভূমিকম্পের আগাম বার্তা ও আলু দিয়ে বিদ্যুৎ তৈরির প্রজেক্ট; নকলা পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে নিরাপদ সড়ক, অক্সিজেন গ্যাস ও জ্বালানি কাজে হাইড্রোজেন তৈরী প্রক্রিয়া; ধনাকুশা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সেনিটাইজার মেশিন, রিফিল এবং ট্যাংক; নারায়ণখোলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ইলেক্ট্রিক হ্যান্ড সেনিটাইজার, করোনাকালীন সময়ে নির্দিষ্ট দুরত্ব রেখে চলার প্রজেক্ট ও করোনা মডেল প্রজেক্ট; মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যানিকেতন থেকে চিত্রের সাহায্যে করোনা মোকাবেলা প্রজেক্ট। আর উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তাদের তৈরীকৃত প্রজেক্ট গুলো হলো- সরকারি হাজী জালমামুদ কলেজ থেকে স্বল্প খরচে হ্যান্ড ওয়াশ প্রস্তুত, চৌধুরী ছবরুননেছা মহিলা কলেজ থেকে করোনা মোকাবেলা প্রজেক্ট ও নকলা শাহরিয়া ফাযিল মাদরাসা থেকে করোনা মডেল, স্বল্প খরচে রোম হিটার, মডেল মাদরাসার প্রজেক্ট তৈরী করে তা দর্শনার্থীদের মাঝে উপস্থাপন করা হয়।

বিজয়ী নির্বাচন উপকমিটির যাচাই বাছাই পূর্বক তাদের ঘোষনা মোতাবেক মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করে নকলা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে নকলা মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার চন্দ্রকোনা রাজলহ্মী উচ্চ বিদ্যালয়। আর উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করে সরকারি হাজী জালমামুদ কলেজ, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে চৌধুরী ছবরুননেছা মহিলা কলেজ ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে নকলা শাহরিয়া ফাযিল মাদরাসা। পরে অতিথিবৃন্দরা বিজয়ীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হাতে পুরষ্কার তুলেদেন।